বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপিকে বাইরে রেখে দেশে কোন নির্বাচন হবে না। জনগণ তা হতে দেবে না।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, খালেদা জিয়া শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই লক্ষে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। প্রয়োজনে সময়োপযোগী কঠোর আন্দোলনে যাবে দেশের সাধারণ জনগণ।
আজ সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়ার মিথ্যা, মামলা বাতিল ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাইরে রাখার জন্য মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে দেশে যদি আইনের শাসন থাকতো, তাহলে আপিলের মাধ্যমে উচ্চ আদালত থেকে খালেদা জিয়া মুক্তি পেতেন। খালেদা জিয়াকে একা, একটি নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। যেখানে থাকা-খাওয়ার তেমন ভাল সুযোগ নেই।
সে আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। সরকার কোন সু-চিকিৎসা করাতে দিচ্ছে না। ইউনাইটেড হাসপাতালসহ দেশের যেকোন উন্নত হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করার সুযোগ দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন,‘লন্ডন থেকে তারেক জিয়াকে ফিরিয়ে আনা হবে বলেছেন তিনি। কিন্তু শেখ হাসিনা যেভাবে চান, সেইভাবে নয়। তারেক জিয়াকে বীরের বেশে এ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
লন্ডন থেকে আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এখন আতংকিত। সাধারণ জনগণ সারাদেশে এ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু করবে। কোন শর্ত ছাড়াই খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু বলেন, গণতন্ত্র যেখানে বন্দি সেখানে নির্বাচনের প্রশ্নই আসে না। অবৈধ সরকার গণতন্ত্রকে বন্দি করে রেখেছে। কিন্তু কেউ কোনদিন গণতন্ত্রকে বন্দি করতে পারেনি। এটা সাগরের পানিতে বাঁধ দেয়ার মতো। সাগরে বাঁধ দিয়ে পানি রোধ করা যায় না,তেমনি খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে গণতন্ত্রকে বন্দি রাখা সম্ভব না। যারা এ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা গণতন্ত্রের প্লাবনে ভেসে যাবে।
তিনি আরো বলেন,বিএনপি নির্ভরশীল জনগণের উপর, আর আওয়ামী লীগ নির্ভর করে বিদেশী শক্তির উপর। সরকার যদি ভেবে থাকেন কিছু পুলিশ ও র্যাব দিয়ে নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করবেন কিন্তু দেশের জনগণ তা কখনো হতে দেবে না।
এসময় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, জালাল উদ্দিন মজুমদার,সদস্য সামশুল আলম, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানসহ প্রমুখ।
মাসুম/এএস





