রাজধানীর ২১টি কোরবানির পশুর হাটের ইজারা সরকারি দলের লোকজন জোড় করে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারি দলের সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সব কোরবানী পশুর হাট। আর তাদের সঙ্গে জড়িত সিটি করপোরেশনের শীর্ষ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ডিএসসিসির হাট: লালবাগ মরহুম হাজী দেলোয়ার হোসেন খেলার মাঠ বাবুবাজার ভেড়ীবাধ সংলগ্ন খালি জায়গা( বিকল্প আরমানিটোলা) শেখ মো. আলমগীর ১ কোটি ১ লাখ ১ হাজার টাকা। গত বছর আরমানিটোলা হাট ইলিয়াস রশিদ ২ কোটি ১১ লাখ ৫০১ টাকায়,তার আগের বছর দর ছিল ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
নারিন্দা সাদেক হোসেন খোকা মাঠের হাট ৫৬ লাখ ১ হাজার টাকায় সাবেক ৭৮ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী,গত বছর ২৭ লাখ ১ হাজার টাকা।
মেরাদিয়া বাজার খিলগাঁওয়ের হাট ৫৬ লাখ টাকায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম আহম্মেদ উল্লাহ,গত বছর ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৭ টাক।
পোস্তগোলা শশ্মানঘাট হাট ১০ লাখ ২০ হাজার টাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মো. রুবেল,গত বছর ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজার সংলগ্ন মৈত্রীসংঘের হাট ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়া ও মো. নূরের নবী ভূইয়া নবী রাজু ,গত বছর ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ ৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকায় মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি,গত বছর ৬ লাখ ৩১ হাজার ৬০৮ টাকা।
ধুপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব ১০ লাখ ২০ হাজার টাকায় হাজী মো.শামসুজ্জোহা ,গত বছর ৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।
গোলাপবাগ মাঠের পাশে সিটি করপোরেশনের আদর্শ স্কুল মাঠ ১০ লাখ ১০ হাজার টাকায় হামিদুল্লাহ,গত বছর ৬১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।
ব্রাদার্স ইউনিয়নের মাঠ ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকায় ক্লাব পরিচালনাকারীদের পক্ষে শহিদ উদ্দিন আহমেদ ,গত বছর ২১ লাখ টাকা।
ঝিগাতলা হাজারীবাগ মাঠের সিডিউর বিক্রি হয় ১৯টি এর মধ্যে যুবলীগের নেতা মাসুদ রানা ১১ লাখ ১১ হাজার ১০ টাকা,গতবছর ৫৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকার ১টি দরপত্র জমা দেন।
নতুন হাট কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ সংলগ্ন জায়গা হাজী মো. আবুল হোসেন সরকার ১ লাখ ১০ হাজার টাকা।
ডিএনসিসির হাট: আগারগাঁও বস্তি-সংলগ্ন হাট পেয়েছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম জাহিদ ও ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি মাঈনুল হোসেন নিখিল।
বনানী কাকলী রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন হাট ৬০ লাখ টাকায় ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক রাজ ।
বারিধারা জে ব্লকের বাইপাস সড়ক-সংলগ্ন হাট ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ভাটারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী নজরুল ইসলাম।
উত্তরা ১১ ও ১৩ নম্বর সেক্টর সোনারগাঁও জনপদ-সংলগ্ন হাট ৯৫ লাখ টাকায় মো. শফিক অ্যান্ড ব্রার্দাসের নামে উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের অর্থ-সম্পাদক মো. শফিকুর রহমান।
মিরপুর সেকশন-৬ ইস্টার্ন হাউজিং-সংলগ্ন হাট ৩৩ লাখ টাকায় লুৎফর রহমান ও আওয়ামী লীগপন্থী এম এ খান খাজা
উত্তরা আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের হাট ৭৩ লাখ ১১ হাজার টাকায় উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফসার উদ্দিন খান।
এদিকে ঢাকা দক্ষিনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা খালিদ আহম্মেদ এবং ঢাকা উত্তরের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম একই সুরে বলেন,রাজধানীতে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারার দর কম বেশি এ বিষয়টি দেখার জন্য প্রধান নির্বাহীকে আহবায়ক করে একটি মূল্যায়ণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। পুনরায় টেন্ডার ডেকেও তেমন কোনো লাভ হয় না।
ঢাকা,একে, ১৫ সেপ্টম্বর. টাইমনিউজবিডি.কম,





