কলাবাগানের ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে মধুফল আমের ঘ্রাণে জিভে চলে আসে জল। কলাবাগানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এখন আমের বাজারে পরিণত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বাজারে আমের দাম কম থাকায়, বেজায় খুশি সাধারণ মানুষ।
রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা জুড়েই বিভিন্নস্থানে বসেছে আমের মেলা ও বাজার। কলাবাগান, ঝিগাতলা, রাইফেল স্কয়ার, শেখ জামাল ফুটবল ক্লাব মাঠ এবং কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের মাঠের পাশে গড়ে উঠেছে ‘রাজশাহীর আমের মেলা’।
চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে চিনিগুড়া, কোহিতর, মিশ্রীভোগ, খিরসাপাতি, ল্যাংড়া, হিমসাগর, আম্রপালিসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম। আর এসব আম প্রকারভেদে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৯০ টাকায়।
রাজধানীর আজিমপুর, পলাশীসহ বিভিন্ন এলাকার মোড়ে ভ্যানগাড়ি বা ঝুড়িতে করেও আম বিক্রি করতে দেখা যায়। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মিরপুর ১০ নম্বর ও শেওড়া পাড়ার ফলের বাজারে এখন চলছে আমের দাপট। আর এসব এলাকায় আম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা থেকে ৭০ টাকায়।
কলাবাগান ক্লাবের সামনে ফুটপাতে গড়ে উঠা দোকানের সামনে দিয়ে কেউ যেতেই দোকানিরা হাক দিচ্ছেন, ‘আহেন মামা আহেন, ওরিজানাল রাজশাহীর আম নিয়া যান। মাত্র সত্তুর ট্যাহা কেজি।’
আম সস্তা হওয়ায় যেমন ক্রেতারা খুশি তেমনি আমের বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি দোকানিরা। কলাবাগানে আম কিনতে আসা ফৌজিয়া জামান হাসতে হাসতে বলেন, এ বছর নাকি আমে ফরমালিন নেই। আমের দামও অনেক কম। তাই একটু বেশি করে কিনে নিচ্ছি। তাছাড়া সারাদিন রোজা রেখে ইফিতারিতে ফল হিসেবে আম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
মিরপুর গোলচত্বর এলাকার ভান্ডারী ফ্রুট স্টোরের মালিক মোহাম্মদ সাগর বলেন, ‘বাজারে ইবার (এবার) আম এহেবারে (একেবারে) পানির দরে বেচতেছি। গত বছর যে আম বেচছি ৮০-৯০ ট্যাহা, ইবার সেই আমের দাম ৬০ ট্যাহা। কাস্টমাররাও খুশি, আমরাও খুশি।’
তবে আমের দাম কম থাকলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারদলীয় বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা ফুটপাত দখল করে মৌসুমি আম ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এসব স্টল থেকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
জেআই





