মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাখাইন মগ সম্প্রদায়ের গনহত্যা থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মুসলিম রোহিঙ্গারা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে আসা নতুন রোহিঙ্গারা আশ্রয়হীনতায় ভোগছে বলে খবর পাওয়া গেছে।জানা যায়, সীমান্তের ওপারে নির্যাতনের শিকার প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপদ আশ্রয় এর অপেক্ষায় অবস্থান করছে।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারা আশ্রয়হীন অবস্থায় উখিয়ার কুতুপালং বস্তিতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। শনিবার সকালে শীতার্থ রোহিঙ্গাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে রেজিষ্ট্রার্ড রোহিঙ্গা শরণার্থীরা।বস্তির ঝুঁপড়ি ঘরের আনাচে কানাছে আশ্রয় নেওয়া বেশ কিছু রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু রয়েছে। তাদের চোখে মুখে এখনো ক্লান্তি, বিষাদ ও গনহত্যার ভয়াবহতার চাপ।
মংডু নাইছংপাড়া গ্রামের শামসুল আলম (৩৫) জানায়, তার স্ত্রী হাসিনা (২৮), মেয়ে শাহিনা (৭), ছেলে কাউসার (৪), সোহেল (২) কে নিয়ে গত দু’দিন ধরে বস্তির ঝুঁপড়ি ঘরের আঙ্গিনায় দিন কাটাতে হচ্ছে। আসার সময় এক কাপড়ে চলে আসার কারণে শীত নিবারণ করতে না পারায় ঠান্ডায় তার দু’শিশু জ্বরে কাপঁছে।জানা যায়, যাদের আত্মীয় ও চেনা জানা রোহিঙ্গা পরিবার রয়েছে তারা আশ্রয় পেলেও হাজারেরও অধিক রোহিঙ্গাপরিবার খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাচ্ছে।
কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি আবু সিদ্দিক জানান, এখানকার রোহিঙ্গাদের নুন আনতে পানতা ফুরায় । একেকটি ঝুঁপড়িতে ৮/১০ জন সদস্যের একেকটি পরিবার গাদাগাদি করে বসবাস করছে। এমতাবস্থায় সদ্য আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার মত অবস্থা বস্তির কোন পরিবারের নেই। তাই রোহিঙ্গাদের ঝুঁপড়ি ঘরের আনাচে কানাছে, আঙ্গিনায়, বারান্দায় রাত কাটাতে হচ্ছে।
বস্তির বাসিন্দা মোঃ তারেক জানান, আশ্রয়হীন এসব রোহিঙ্গাদের সহায় সম্বল না থাকার কারণে তাদের অনেককেই অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে।কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা ফয়সাল আনোয়ার জানান, মংডু আরাকান রাজ্যে প্রায় ২৫টি গ্রাম পুড়িয়ে দিয়ে উচ্ছেদ করেছে হাজার হাজার বসতি । ধর্ষন করা হয়েছে অসংখ্য নারীদের।
সে আরো জানায়, মিয়ানমার সামরিক জান্তা জ্বালাও পোড়াও আপাতত বন্ধ রেখে মুসলিম অধ্যুষিত জনপদ বুচিদং এলাকায় প্রবেশ করে লুটপাট ও নির্বিচারে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করছে।
বুচিদং লেমছি পাড়া থেকে আসা আমিনা খাতুন (৩৫), মগসেনা, পুলিশ ও রাখাইন যুবকদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া এক মাত্র তরুণী কন্যা লায়লা খাতুন (১৮) কে নিয়ে চার দিন পায়ে হেটে বাংলাদেশে আসতে পারলেও তার স্মামীর কোন খোঁজ পাচ্ছেন না তারা।তার মতো আরো বেশ কয়েকটি পরিবার সম্ভ্রম বাচাঁতে এখানে আসার জন্য সে দেশের সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কক্সবাজার বিজিবি’র ভারপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল এম এম আনিসুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া, টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি’র সদস্যরা রাতদিন পরিশ্রম করছে।
গত এক মাসে কতজন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীকে পুশব্যাক করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অসংখ্য রোহিঙ্গা নাগরিককে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে ।
মানিক/নাজিব





