২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথে ট্রেনে ভয়াবহ সিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে করে চরম দুভোর্গে পড়েছেন যাত্রীরা। আতংকগ্রস্ত যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ট্রেনে চড়ছেন। অবরোধের কারণে একেকটি ট্রেন কমপক্ষে এক থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলাচল করছে। পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথে বৃহষ্পতিবারও এ অবস্থা অব্যাহত ছিল।
জানা গেছে, অ্যাডভান্স পাইলটিং সিস্টেমের কারণে গত মঙ্গলবারও কয়েকঘণ্টা বিলম্বে ট্রেন চলাচল করেছে। ঢাকাগামী তূর্ণা-নিশিথা ট্রেন (৭৪১নং আপ) সোমবার রাত সাড়ে ১১টার পরিবর্তে ১২ ঘণ্টা বিলম্বে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম ছেড়ে আসে। এই ট্রেনটিই মহানগর প্রভাতী হিসেবে ফিরে আসার কথা। নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী উপকুল এক্সপ্রেস ট্রেনও দুপুর নাগাদ প্রায় পাঁচঘণ্টা বিলম্বে চলছিল। চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহগামী নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস এবং সিলেট থেকে ঢাকাগামী সুরমা মেইল ট্রেন প্রায় ১২ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করে।
সুরমা মেইলটি সোমবার রাত সাড়ে ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসার কথা থাকলেও গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে অবস্থান করছিল। নাসিরাবাদ ট্রেনটি সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে আসার কথা থাকলেও মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে পৌছে। ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার ট্রেন গত মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও দুপুর ২টা পর্যন্ত ট্রেনটিকে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে পার্কিং করা অবস্থায় দেখা যায়।
এদিকে রেলপথে নাশকতারোধে গত কয়েকদিন আগ থেকেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পূর্বাঞ্চলের ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশেও এসব পদক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে। নিরাপত্তার জন্য রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি এখানে থানা পুলিশও কাজ করছে। কাজে লাগানো হয়েছে গ্রাম পুলিশ ও দফাদারদের। এছাড়া রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা রেলপথে আগের চেয়ে নজরদারি বাড়িয়েছেন।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন ফারুক বলেন, “নাশকতারোধে রেলপথের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে ট্রেনেও। রাতের বেলা আগে ‘নিরাপত্তা ট্রেন’ যাওয়ার পর যাত্রীবাহী অন্য ট্রেন চালানো হচ্ছে বলে ট্রেন কিছুটা বিলম্বে চলছে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে আমরা এলাকাবাসীর সঙ্গে বৈঠক করেছি।"
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান পিপিএম বলেন, রেলওয়ে নাশকতা রোধের লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় এ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও সভা করা হচ্ছে। এছাড়া আমরা গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করেছি। আনসার সদস্য মোতায়েনের চেষ্টা চলছে। এদিকে ট্রেন খুব বেশি বিলম্ব হওয়ার কারণে যাত্রীও তুলনামূলক কমে গেছে। দূরপাল্লার বাস চলাচল অনিশ্চিত হওয়ায় গত কয়েকদিন ট্রেনে ভীড় বাড়লেও এখন বিলম্বের কারণে উল্টো চিত্র।
হষ্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রী খুব একটা নেই। স্টেশনের দোকানীরা জানালেন, অনির্ধারিত বিলম্বের কারণে মানুষ ট্রেন বিমুখ হয়ে পড়ছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, নাশকতারোধে এখন প্রতি দুই কিলোমিটার পর পর চারজন করে নিরাপত্তারক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি ট্রেনে তিনজনের বদলে পাঁচজন নিরাপত্তা সদস্য দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ইতিমধ্যেই গতি কমিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চালকদেরকে।
জেআই





