শার্শার চালিতাবাড়িয়া গ্রামের গৃহবধুকে বিষাক্ত কেমিকেল মারার ঘটনায় থানায় মামলা করে বিপাকে পড়েছে বাদী পক্ষ। আসামীরা প্রকাশ্যে বাদী পক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

আসামিরা প্রকাশ্য এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাগআঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই শরীফ হাবিবুর রহমান নগদ নারায়ণে তুষ্ট হয়ে আসামীদের গ্রেফতার করছে না।

এলাকাবাসিদের দাবি মামলার আসামিরা এলাকার নামকরা সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী এক ব্যক্তির সাথে থাকে তাই পুলিশ নিরব রয়েছে।

জানা যায়, শার্শা উপজেলার চালিতাবাড়িয়া গ্রামের ওয়াহেদের বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বে রাস্তার উপর গত ২৬শে আগষ্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় নিগার সুলতানা লাকী (৩৪) নামে এক গৃহবধুকে লক্ষ্য করে বিষাক্ত কেমিকেল ছোড়ে সন্ত্রাসীরা।

সে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের বাইকোলা গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী। সন্ত্রাসীদের ছোড়া বিষাক্ত কেমিকেলে গৃহবধু লাকীর মুখ ও পিঠের বামপার্শ্বে ঝলসে যায়।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডাঃ এবিএম আক্তার মারুফ প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা দেয়।

পরে গৃহবধুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন সন্ধ্যায় লাকির স্বামী কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের এআই কর্মী আব্দুল জলিল বাদী হয়ে শার্শা থানায় মামলা করেন।

মামলার আসামীরা হলেন, কায়বা ইউনিয়নের বাইকোলা গ্রামের মৃতঃ আজিজার রহমানের ছেলে নাজমুল হুদা (৩৮), কামরুজ্জামান সহ অজ্ঞাত ৪/৫ জন। যার মামলা নং- ৩৩, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০এর ৪(২)(খ)।

মামলাটি দেড়মাস হয়ে গেলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গ্রেফতার না হওয়ায় বরং আইনকে বৃদ্ধাগুলী দেখিয়ে আসামীদ্বয় বাদীকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাদী আব্দুল জলিলের শ্যালক আহসানুল কবির তুহিন সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৮ তারিখ রবিবার আসামীদ্বয় আমার কর্মস্থলে এসে মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য হুমকী দিয়ে আসে এবং বলেন ভবিষ্যতে ঘটনাটি আরো খারাপের দিকে যাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানা যায়, আব্দুল জলিলের কোন ছেলে সন্তান নাই তাই জমাজমি নিয়ে অনেকদিন ধরে তাদের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।

মামলার বাদী আব্দুল জলিল জানান, আমি মামলা করে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কত প্রকারের হুমকী-ধামকী চলছে তার কোন লেখাজোখা নেই। মামলা তদন্তকারী অফিসার এখনও পর্যন্ত বিষাক্ত কেমিকেলের রিপোর্ট এর জন্য আবেদন করেননি।

এ ব্যাপারে মামলা তদন্তকারী অফিসার বাগআঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই শরীফ হাবিবুর রহমান জানান, আসামি ধরছি না এটা সঠিক নয়। আসামিরা কেউ এলাকায় নেই। সবাই পলাতক রয়েছে। আজ থেকে প্রায় ১৫ দিন আগে কেমিকেল রিপোর্ট চেয়ে ঢাকায় শের আলী নামের এক কনষ্টেবল পাঠান হয়েছিল। কেমিকেল রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি।

এমবি