ব্রিটিশ সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-লন্ডন রুটে কার্গো পরিবহন চলাচল বন্ধের ঘোষনা দেয়ায় প্রায় ৪০ মিলিয়ন ইউএস ডলার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্রিটেনে সব্জি আমদানিকারকদের সংগঠন ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ভেজিটেবল এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট রফিক হায়দার বলেন, বাংলাদেশ সরকার কতৃক দ্রুত এই সমস্যার নিরসন না করলে ব্রিটেনে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা ব্যাবসা বানিজ্যে টিকে থাকতে পারবেনা। পাশাপাশি এই মার্কেট চলে যাবে ভিয়েতনাম, মায়ানমার কিংবা থাইল্যান্ডের হাতে।
অন্যদিকে , বাংলাদেশ থেকে পন্য আমদানি করতে গিয়ে আমদানিকারকরা সব্জির মান নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না। এর প্রধান কারণ হিসেবে মি. হায়দার বলেন, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কোনও হিমাগার নেই। ঘন্টার পর ঘন্টা টাটকা শাক-সব্জি বিমানবন্দরে ফেলে রাখা হয় যার প্রেক্ষিতে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
পাইকারী ব্যাবসায়ীদের আড়ৎ থেকে পণ্য বিমান বন্দরে পৌঁছাতে গিয়েও আমদানিকারকরা নিজেদের উদ্যোগে কোল্ড চেইনের রক্ষণাবেক্ষণ সঠিক ভাবে করতে না পারায় লন্ডনে আসতে আসতে সব্জি আর টাটকা থাকে না। অথচ থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা সব্জি বিশেষ পদ্ধতিতে প্যাকেটজাত করার কারণে ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত মান নষ্ট হয় না।
সব্জি আমদানিকারক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কমর উদ্দীন চৌধুরী বলছেন, প্রবাসে তারা দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে বাংলাদেশি শাক-সব্জির বিশাল বাজার তৈরি করেছেন, যা থেকে বাংলাদেশের প্রতি বছর ৪০ থেতে ৬০ মিলিয়ন ইউএস ডলার বৈদেশিক মুদ্রা লাভ হয়ে থাকে। এই সব্জি আমদানি প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে কয়েক হাজার বাংলাদেশি সম্পৃক্ত রয়েছেন। পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে ব্যবসায়িকভাবে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বেকার হয়ে যাবে। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছাড়া অন্য এয়ারলাইন্সে পণ্য পরিবহন করলে ট্রানজিটের কারণে ফ্রেইট চার্জ বেড়ে যাবার পাশাপাশি ট্রানজিট টাইমের কারণে দীর্ঘ সময়ে সব্জির গুণগতমান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
তবে এ ব্যাপারে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন অবশ্য বলছেন, ব্রিটেনের পরিদর্শক দল ঢাকা বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ব্যাপারে ৭০ শতাংশ সন্তুষ্ট। আগামি ৩১ মার্চের মধ্যে বিমানবন্দরের ব্রিটিশ অ্যাভিয়েশন অথরিটির নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যপারে তিনি আশাবাদী।
কিন্তু আমদানিকারকরা বলছেন, ব্রিটিশ অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলো, সেখানে তারা নিরাপত্তার ব্যাপারে আশ্বস্ত না হওয়ায় চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশকে এই সময় সীমা বেঁধে দেয় ব্রিটিশ অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।
এসটি





