পার্বত্য শান্তি চুক্তিকে পার্বত্য কালো চুক্তি আক্ষা দিয়ে অবিলম্বে তা পূনর্মূল্যায়নের দাবী ও পার্বত্য ভূমি কমিশন (সংশোধনী-২০১৬) বাতিলের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য বাঙ্গালি ছাত্র পরিষদসহ ৫ বাঙ্গালী সংগঠণের নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার সকাল ১০টায় জাতীয় শিশু কল্যাণ পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ সকল দাবী জানান বক্তারা।
পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান জেনারেল ইব্রাহিম বীর প্রতিক, আলোচনা অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননী।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই পার্বত্য অঞ্চলে বাঙ্গালিদের টিকে থাকতে হবে।
বক্তারা পার্বত্য শান্তি চুক্তিকে পার্বত্য কালো চুক্তি আক্ষা দিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্রগ্রামে বসবাসরত বাঙ্গালিদের জন্য ইতিহাসের একটি কালো দিবস ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর। আজকের এই দিনে তৎকালীন ৩০ হাজার বাঙ্গালির হত্যাকারী কুৎখ্যাত গেরিলা সন্ত্রাসী আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান খুনি সন্তু লারমার সাথে এই চুক্তি সম্পাদন করা হয়।
যার মাধ্যমে পার্বত্য বাঙালী নারীদের ধর্ষনের বৈধতা প্রদান করা হয়। একই সাথে বঞ্চিত করা হয় পার্বত্য বাঙালীদের সকল নাগরিক অধিকার থেকে।
পার্বত্য বাঙ্গালিরা চরম বঞ্চনার স্বীকার দাবি করে বক্তারা বলেন,কালো চুক্তির ভয়াল ধারার কারনে পার্বত্য বাঙালীদের যোগ্যতা থাকা স্বত্ত্বে ও সামাজিক, রাজনীতিক ও অর্থনীতিকভাবে তাদের কে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
পার্বত্য শান্তি চুক্তির মাধ্যমে সবচাইতে বেশী লাভবান হয়েছে সন্তুলারমা এমন দাবী করে বক্তারা বলেন,
সারা বাংলাদেশে যখন জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে, তিন পার্বত্য জেলার বাঙ্গালিরা পাচ্ছেনা তার কোন আমেজ।কারন কালো চুক্তিতে বলা আছে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হবে উপজাতী।
পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ৩০ হাজার বাঙ্গালির খুনি সন্তু লারমা ও তার দোসররা।পার্বত্য শান্তি চুক্তির কঠোর সমালোচনা করে বক্তারা আরো বলেন,
পার্বত্য চুক্তির ৭২ টি ধারার মধ্যে ইতিমধ্যে ৪৮ টি ধারা পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ১৫ টি ধারা আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে, বাকী ০৯ টি ধারা বাস্তবায়ন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ৯০ ভাগ শান্তি চুক্তি ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়ে গেছে।
তারপরও সন্তু লারমা সরকারকে চাপ সৃষ্টি করে শান্তিচুক্তি পূর্ন বাস্তবায়ন করানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। মূলত সন্তু লারমা "আদিবাসী স্বীকৃতি আদায় করে পার্বত্য অঞ্চলকে জুম্মল্যান্ড বানানোর দিবাস্বপ্ন দেখছে।
বাঙ্গালিদের ভূমি হীন করার লক্ষ্যেই ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি আইন (সংশোধনী-২০১৬) জাতীয় সংসদে পাশ করানো হয়েছে। অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তির পূণর্মূল্যয়ন দাবি করেন বক্তারা।
আলোচনা সভায় অন্যান্নদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের মহা-সচিব এডভোকেট ইয়াকুব আলী চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ রাজু, অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ(চ.বি), পার্বত্য গণ পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট পারভেজ তালুকদার, যুগ্ন সম্পাদক অলী উল্লাহ,
পার্বত্য সমঅধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মণিরুজ্জামান মণির, পার্বত্য বাঙ্গালি ছাত্র পরিষদের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রিয় সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইব্রাহিম মনির, ঢাকা মহানগরী সভাপতি সাহাদাত ফরাজি (সাকিব) প্রমুখ।
আবু বকর/মাহমুদ





