রাজশাহী নগরীতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার সকাল ৬টার দিকে নগরীর উপশহর এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়টিতে আগুন দেয়া হয়। এতে সেখানে থাকা দুটি মোটরসাইকেলসহ বেশকিছু আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।

কার্যালয়টি নগর আওয়ামী লীগের উত্তরাঞ্চলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এছাড়া রাতে নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।এদিকে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় ১৪ বিএনপি ও জামায়াত-শিবির কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আটককৃতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, সকালে অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দেয়। খবর পেয়ে দমকল কর্মীরা গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই শিবির কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এর আগে রাতভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ১২জনকে আটক করা হয়। তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, ডেটলাইন ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে নগরীতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। র‌্যাব-পুলিশের পাশপাশি নগরজুড়ে টহল দিচ্ছে ৪ প্লাটুন বিজিবি। স্ট্যান্ডবাই রয়েছে আরো দুই প্লাটুন বিজিবি। এছাড়া ভোর থেকেই স্পর্শকাতর ও জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। চেকপোস্ট বসিয়ে চলছে তল্লাশি। অব্যহত রয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় শর্ত সাপেক্ষ বিএনপিকে সমাবেশ করার মৌখিক অনুমতি দেয় আরএমপি। সোমবার সকাল ১১টায় নগরীর ভূবন মোহন পার্কে মহানগর ও রাজশাহী কলেজে জেলা বিএনপির আলাদা সমাবেশ করার কথা রয়েছে।

এছাড়া নাশকতা ঠেকাতে নগরীর অন্তত ১০টি পয়েন্টে অবস্থান নেয়ার কথা রয়েছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। বড় দু’দলের মুখোমুখি অবস্থনে নগরবাসী রয়েছে এক ধরনের উৎকণ্ঠায়।

কেএইচ