রাজধানীর পপুলার ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে নারী রোগীর ভিডিও ধারণের ঘটনায় গ্রেফতার টেলিফোন অপারেটর হাসিবুর রহমান সুমনের (২৭) মোবাইল ফোনে আরও কিছু নারী রোগীর অস্পষ্ট ছবি পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

গোপনে পাশের টয়লেট থেকে নারীদের ভিডিও ও ছবি তুলে সুমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধুদের গ্রুপে শেয়ার করতেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

শনিবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক নারীর ১০ সেকেন্ডের ভিডিও ধারণ করায় সুমনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।ওই রোগী খিলক্ষেত থেকে গাইনি ডাক্তার দেখাতে ধানমণ্ডির পপুলার ডায়াগানস্টিক সেন্টারে আসেন। ইউরিন পরীক্ষার আগে ওয়াশরুমে গেলে এই ঘটনা ঘটে। পরে হাতেনাতে সুমনকে আটক করে থানায় সোর্পদ করা হয়।

এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি আইন ২০১২ এর ৮ ধারায় মামলা করেন। পরে আদালত দুদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করে। প্রথম দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এসব কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন সুমন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার এসআই খায়রুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, প্রথমদিনের জিজ্ঞাসাবাদে ভিডিওসহ আরও কয়েক নারীর ছবি তোলার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

পুলিশ জানায়, সুমন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পিএবিএক্স অপারেটর হিসেবে তিন বছর ধরে কর্মরত। তার জব্দকৃত মোবাইল ফোন থেকে আরও কিছু নারীর ছবি পাওয়া গেছে।

ওই নারীরা পপুলার ডায়াগনস্টিকে রোগী হিসেবে এসেছিলেন। তাদের অজান্তেই ছবিগুলো তোলা হয়েছিল। তাদের ছবি ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ারও করতেন সুমন।

সুমন মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করেছেন বলে জানায় পুলিশ। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মিরপুর বাঙলা কলেজের পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসও (ইউল্যাব) লেখা রয়েছে।সুমনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। তার বাবা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের আলমডাঙ্গা শাখায় কর্মরত।

ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ যুগান্তরকে বলেন, সুমনের মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। ওই নারী যে টয়লেটে ছিলেন তার পাশের টয়লেট থেকে ভিডিও করে সুমন। তার মোবাইলে আরো কিছু নারীর অস্পষ্ট ছবি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, বিকৃত চিন্তা থেকেই সে এসব ভিডিও ও ছবি ধারণ করতো। পরে বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতো।

ওসি বলেন, গ্রেফতারের পরেই সুমন ভিডিও ধারণের বিষয়টি স্বীকার করে। সে সোমবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবে।

এমবিএ্ইচ