রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সাথে আলোচনার জন্য মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল আগামীকাল রোববার ঢাকা আসছে।মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অং সান সু চি’র দফতরের মন্ত্রী খিও টিন্ট সয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।

আগামীকাল রাতে তাদের ঢাকা পৌঁছানোর কথা। প্রতিনিধি দলটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবে।

বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়টি নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মাহমুদ আলীকে জানিয়েছিলেন মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। পরবর্তী সময় এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সাথে কথা বলার অতীত অভিজ্ঞতা ভালোনয়। তারা তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। সবকিছুই ঝুলিয়ে রাখে। বলে, মিয়ানমার ফিরে গিয়ে জানাবো। পরে আর কোনো ফলোআপ পাওয়া যায় না।

এর আগে সু চি’র একজন বিশেষ দূত বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সাথে বৈঠকে ওই দূতকে জানানো হয়, বাংলাদেশে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে। তাদের প্রত্যাবাসন জরুরি। জবাবে সু চি’র দূত আশ্চর্য হয়ে বলেন, আমি জানতাম কয়েক হাজার আছে।

পররাষ্ট্র সচিব তৎক্ষণিকভাবে হেলিকাপ্টারে কক্সবাজার গিয়ে বিষয়টি সরেজমিন দেখার অনুরোধ জানালে দূত জানান, ঢাকার বাইরে যাওয়ার অনুমতি আমার নেই।

তাই এবারও মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হবে বলে বাংলাদেশ আশা করছে না। রাখাইনে কোনো জাতিগত নিধন বা গণহত্যা হচ্ছে না বলে মিয়ানমার তার অবস্থান পরিষ্কারভাবে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে জানিয়ে দিয়েছে। তারা বলেছে, রাখাইন সংকট ধর্মীয় নয়, বরং সন্ত্রাসবাদের কারণে সৃষ্টি হয়েছে।

মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয়ভাবে বাংলাদেশের সাথে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে - এমন একটি বার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেয়ার জন্যই প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমএ