টাঙ্গাঈলে নির্যাতনের শিকার তেরো বছরের শিশু গৃহকর্মী আর্জিনা এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে কাদঁছে। আর্জিনার উন্নত চিৎিসার জন্য নীলফামারীর ডিমলা হাসপাতাল হতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সেখানে সার্জারী বিভাগের ১৬ নম্বর ওর্য়াডে তাকে ভর্তি করা হয়। তার সঙ্গে রয়েছে আর্জিনার মা আনজুয়ারা ও বাবা আনছার আলী, খালা মঞ্জুয়ারা ও নিকট আত্বীয় দবির উদ্দিন।
শিশু গৃহকর্মী আর্জিনা গত ৭ বছর ধরে টাঙ্গাইল জেলা শহরের পৌর এলাকার ১৭ নম্বর ওর্য়াডের বিশ্বাস বেতকা মহলার শিবনাথ পাড়ার আমির আলীর ছেলে তাজুল ইসলামের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতো। মেয়েটিকে ওই বাড়িতে কাজের জন্য নিয়ে যায় ডিমলার সুঠিবাড়ির শাহিনুর নামের এক ব্যাক্তি। আর্জিনার অভিযোগ গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে ওই বাড়ির গৃহকর্তার স্ত্রী আমেনা বেগম ও তাদের মেয়ে লাভলী আক্তারের নিষ্ঠ’র বর্বরতা নির্যাতনের শিকার হয় আর্জিনা।
গত শনিবার রাতে আর্জিনাকে তার দাদা নুরু মিয়া টাঙ্গাইল হতে অসুস্থ্য অবস্থায় নিয়ে আসে। এরপর এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশু গৃহকর্মী আর্জিনাকে গত রবিবার দুপুরে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পওে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর্জিনা নীলফামারীর ডিমলার সঙ্গে লাগানো তিস্তা নদীর ওপারে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার আরাজি শেখ সিন্ধু গ্রামের আনছার আলী ও মা আনজু বেগমের মেয়ে। এদিকে এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা করতে পারেনি পরিবারটি।
অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছে। মহলটি আর্জিনাকে নির্যাতনকারী বাসার মালিক টাঙ্গাইলের শহরের আমির আলীর ছেলে তাজুল ইসলামের নিকট ইতোমধ্যে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অথচ বিষয়টির কিছুই জানে না আর্জিনার বাবা-মা।
এ প্রসঙ্গে আর্জিনার মা আনজু বেগম জানায়, ডিমলার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের মামলা না করার জন্য হুমকী দিয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে সুস্থ্য করে তুলে টাঙ্গাইলে গিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করবো। এ জন্য তাদের আইনী সহায়তা দিতে চেয়েছেন ঢাকার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবী শিল্পী সাহা।
এদিকে ঢাকার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবী শিল্পী সাহা ঢাকা হতে মোবাইল ফোনে বলেন, নির্যাতনের শিকার মেয়েটিকে টাঙ্গাইল আদালতে গিয়ে মামলা করতে সকল খরচ আইন ও সালিশ কেন্দ্র বহন করবে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে রংপুর মেডিকেল কলেজের পরিচালক বরকত উল্যাহ জানান, বর্তমানে আর্জিনার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সুস্থ হতে কিছুদিন সময় লাগবে।
এসএ





