কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবা চোরাচালান থেকে সন্ত্রাস-দখলবাজী, কোথায় নেই সাংসদ আব্দুর রহমান বদি! বিতর্কিত, সমালোচিত সব বিশেষণই যেন, তার নামের প্রতীক হয়ে গেছে। নিজের বিষয়ে বরাবরই এমন সাফাই তার কন্ঠে।

দলের সেই নিউক্লিয়াসই এখন কারাগারে। আবদুর রহমান বদির বাবা এজহার মিয়া আন্তর্জাতিক চোরাচালান সিন্ডিকেটের অন্যতম গডফাদার। বাবার ২৬ সন্তানের মধ্যে সবার বড় হলেও দক্ষিণ এশিয়ার মাদক সাম্রাজ্যে পরিচিত মেজভাই নামে।

কিশোর বয়সেই বাবার চোরাচালান ব্যবসায় হাতেখড়ি। বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙ্গও যেখানে থামাতে পারেনি তার গতিপথ, সেখানে প্রশাসন যেনো কোন ছাড়। অস্ত্র , মাদকসহ নানা চোরাই পন্য টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে আনার সব নিয়ন্ত্রনে একক অধিকর্তা যেনো বদিই। অঢেল অর্থের মালিক হওয়ায় রাজনৈতিক দলের ছায়া পেতেও সমস্যা হয়নি তার। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সাথে সখ্য, ১৯৯৬ সালেই চেয়ে বসেন মনোনয়ন।

কিন্তু তা না পাওয়ায় ভোল পাল্টে রাতারাতি যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা, ২০০৮ সালে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য। এরপর শুরু হয় বদির ত্রাস আর দুঃশাসনের, হয়ে ওঠেন এলাকার মুকুটহীন সম্রাট। যদিও জোড় গলায় সবসময় তা অস্বীকার করে আসছেন বদি। টেকনাফে রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানো, ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রন সবকিছুই তিনি করেছেন সবার সামনেই। আর এ সংক্রান্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদন যায় খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও। এরপরও বহাল তবিয়তেই ছিলেন বদি।

এলাকায় মারধর করা ছিলো বদির একটি নেশা। এর হাত থেকে বাদ পরেনি সরকারী কর্মচারী, আইনজীবী, স্কুল শিক্ষক কেউই। তবে এবার যেনো রেহাই নেই, আইনের দূত যে দুয়ারে বদির। আর তাই আদালতের রায়ে দুর্নীতি মামলায় দন্ড হলো তিন বছরের কারাবাস।

মাসুম/এমবিএইচ