অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন পাহাড়ে অপহৃত তিন বন কর্মকর্তা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর পর উদ্ধার হওয়া তিন বন কর্মকর্তাকে রাত ৮টার দিকে রাঙামাটি শহরে নিয়ে আসা হয়েছে।
সূত্র জানায়, কোনো ধরনের মুক্তিপণ ছাড়াই সেনাবাহিনী অপহৃত তিন কর্মকর্তাকে নানিয়ারচরের পাহাড়ি এলাকা বা মহালছড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে বলে একটি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আবু হানিফ পাটোয়ারীও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন কোনো মুক্তিপণ ছাড়াই সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করেছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার সময় তিনি রাঙামাটিস্থ সরকারি বাসভবনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এই প্রতিক্রিয়া জানান।
উদ্ধার পর সেনা কর্ডনে তাদের রাঙামাটি বন সংরক্ষকের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। তবে এর আগে সোমবার রাত থেকেই গুঞ্জন ছিল যেকোনো মুহূর্তে মুক্তি পেতে পারে তিন অপহৃত।
বিভাগীয় প্রধান বন কর্মকর্তা আবু হানিফ পাটোয়ারী জানান, গত এক সপ্তাহে নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করে ও লাগাতার যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর ও আশে পাশের এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীসহ যৌথবাহিনী বিভিন্ন কৌশলে অভিযান পরিচালনা করতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় অপহরণকারি সন্ত্রাসীরা অপহৃতদেরকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে রাঙামাটিতে পাঠিয়ে দেয়। মঙ্গলবার রাত আটটার সময় অপহৃত তিন বন কর্মকর্তা-কর্মচারি রাঙামাটিস্থ বনবিভাগের বাসভবনে এসে পৌঁছান। পরে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ সরকারি বাসায় পৌছে দেয়া হয়। বর্তমানে তারা সবাই সুস্থ রয়েছেন বলে জানান তিনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সম্ভবত রাঙামাটির কুতুকছড়ির কোনো এক দুর্গম স্থান থেকে অপহৃতদের মেইন রোডে এনে অটোরিকশায় তুলে দিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
এদিকে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মনু সোহেল ইমতিয়াজ জানিয়েছেন, আমরা রাত আটটার সময় জানতে পারি অপহৃতদের ছেড়ে দিয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার লংগদুর জোত বাগান পরিদর্শনে গেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক ফরিদ মিয়া, রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম এবং ফরেস্টার বিবর্তন চাকমাকে অপহরণ করে একদল সন্ত্রাসী। এই গ্রুপে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন কর্মকর্তা ও একজন রেঞ্জারসহ সাত বন কর্মী ছিলেন।
লংগদুর হরিকাটা এলাকায় জোত বাগান পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে তাদের অপহরণ করা হয়। তিন সঙ্গীকে অস্ত্রধারীদের কাছে রেখেই ফিরে আসতে বাধ্য হন তাদের বাকী চার সহকর্মী। ঘটনা সেই দিনই জানাজানি হলেও বনবিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনা স্বীকার করে অনেক পরে।
এএইচ





