সোমবার সকাল দশটা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে যেতেই চোখে পড়ে পরীক্ষার্থীদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অহব্বান “কেউ মোবাইল ও ব্যাগ নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করবে না। সবাই এখানে জমা রেখে যাও। সম্পূর্ণ নিরাপদ।” সারাদিনই চলে এমন হাকডাক।

কারন, পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা আছে, মোবাইল, ব্যাগ, ঘড়ি ও কোন প্রকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে পারবে না এবং বিএনসিসির কর্মীরাও এসব ডিভাইস নিয়ে হলে প্রবেশ না করতে অনুরোধ করছে।

এতে করে যারা একাএকা দূর-দুরান্ত থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছে তারা তাদের এসব প্রয়োজনীয় জিনিস কোথায় রেখে পরীক্ষা দিবে এনিয়ে পড়ে মহা টেনশনে। কিন্তু তাদের এসব টেনশন দূর করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ‘১০০% নিরাপদ’ এমন শ্লোগান নিয়ে সবকটি অনুষদের সামনে নিজেদের উদ্যোগে অবৈধ স্টল বসিয়ে অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় জিনিস নিরাপদে রাখা ব্যাবসা শুরু করে দিয়েছেন। যেখানে তাদের নিজেদেরই কোন নিরাপত্তা নেই। সেখানে তারা অন্যের নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত!

সাধানত এসব স্টল বসানোর ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু তারা অনুমতি না নিয়েই ব্যাগ ও মোবাইলের মতো মূল্যবান এসব জিনিস রাখার মতো দায়িত্ব নিয়েছেন। এতে জিনিসপত্র হারানো সহ যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা। অথচ প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে তারা চালিেেয় যাচ্ছেন এরকম রমরমা বানিজ্য।

এ বিষয়ে এস্টেট অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন বলেন, আমরা যেসব দোকান বরাদ্দ দিয়েছি তার তালিকা রেজিষ্ট্রার ও নিরাপত্তা অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি এবং বিভিন্ন স্থানে ২৬ টি অবৈধ দোকানের বিরোদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তিনি বলেন, আমাদের হাতে তো নিরাপত্তা বাহিনী নেই যে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব। উচ্ছেদের ক্ষমতা তো নিরাপত্তা অফিসের। আমাদের দায়িত্ব বৈধ আর অবৈধ দোকান চিহ্নিত করা আমরা তাই করেছি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সামনে তিনটি, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সামনে দুইটি, ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণার সামনে একটি, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ভবনের সামনে একটি ও পুরাতন কলা ভবনের সামনে বসেছে এসব স্টল । প্রতিটি স্টলে দায়িত্বে আছেন তিন থেকে চার জন এবং তার সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যাচের শিক্ষার্থী।

টোকেনের মাধ্যমে প্রতিটি মোবাইল বা ব্যাগ রাখার জন্য তারা নিচ্ছেন ১৫-২০ টাকা। তবে ক্ষেত্র বিশেষে 
নতুন কলা ভবনের সামনেই কথা হয় মুশফিক নামের এক পরীক্ষার্থীর সাথে। বললেন, আমরা যারা দূর থেকে অভিবাবক ছাড়া পরীক্ষা দিতে এসেছি তাদের অনিরাপদ জেনেও বাধ্য হয়েই এখানে রেখে যেতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে নিরাপত্তা ব্যাবসার আয়োজনকারীরা বলেন, আমরা পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এ ব্যবস্থা করেছি। এতে তাদের অনেক উপকার হচ্ছে। তবে প্রশাসনের অনুমতির কথা জানতে চাইলে তারা কেউই অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি।

তবে নতুন কলা ভবন ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সামনের একাধিক স্টলের প্রতিনিধিরা জানান, ‘তারা ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর মেহেদী ইকবালের সাথে তারা কথা বলেই এখানে বসেছেন।’ কিন্তু একজন সহকারী প্রক্টর কোন স্টল বসানোর অনুমতি দিতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

এবিষয়ে জানতে সহকারী প্রক্টর মেহেদী ইকবালের সাথে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন বলেন, যাদের অনুমতিপত্র নাই তাদের দ্রুত অনুমতিপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত যাদের অনুমতি নাই তাদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থ্যা নেওয়া হবে।

এদিকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা-১) ও ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা এ সব অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ করার জন্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আদেশ দিয়েছি। আবারও আমি বিষয়টি দেখার জন্য জোর দিব।’
 

রাইয়ান /নাজিব