জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর তালতলা গ্রামের চার খুনের ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে ঘরজামাই সুমন হেব্রম।
পাঁচবিবি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ হোসেন রোববার জয়পুরহাটের জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে সুমনকে হাজির করেন।
খুনের দায় স্বীকার করে সুমন হেব্রমের ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক মো. খায়রুল ইসলাম।
গত শনিবার পাঁচবিবির ভীমপুর আদিবাসী পল্লীতে শিশুপুত্রসহ পরিবারের চারজনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে জামাই সুমন হেব্রম। তার চাপাতির আঘাতে গুরতর আহত স্ত্রী সেলভিয়া রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর সুমন হেব্রমকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এলাকাবাসী। ওই দিনই শ্বশুর ম্যানিয়েল বাদী হয়ে জামাইকে একমাত্র আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ হোসেন জানান, সুমন হেব্রম আদালতে চার খুনের দায় স্বীকার করে বলেছে বিয়ের পর থেকে স্ত্রী সিরভিয়ার সঙ্গে অন্য ব্যক্তির অনৈতিক সম্পর্ক আছে এমন সন্দেহ থেকে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। দিন দিন সন্দেহ ও কলহ প্রকট আকার ধারণ করে।
এ ছাড়া ঘরজামাই থাকার কারণে সিলভিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো পরিবারের কেউ আমলে নিতো না। এতে জামাই হিসেবে মর্যাদার অভাব বোধ করতো সে।
এসব কারণে ক্ষুব্ধ ভাব থেকে এক সময় ক্ষোভের জন্ম হয় এবং চার জনকে খুন করে বলে সুমন স্বীকারোক্তিতে জানায়।
সুমনের শ্বশুর ম্যানিয়েল মারান্ডী জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়ে সিলভিয়া মারান্ডী আগের চেয়ে একটু সুস্থ হয়েছে।
লাশগুলোর ময়না তদন্ত শেষে স্ত্রী সন্ধা রানী, কলেজ পড়ুয়া মেয়ে তেরেজা মারান্ডী ও নাতি সানীকে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে কবর দেয়া হয়েছে।
বাড়িতে কাজ করা ভগ্নিপতি মার্কেল মারান্ডীকে দিনাজপুর জেলার ঘোরাঘাট উপজেলার সুখানপুকুর নিজ গ্রামে কবর দেয়া হয়েছে বলে জানান ম্যানিয়েল মারান্ডী।
এআর





