খুলনার তেরখাদায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে চরমপন্থি দলের ক্যাডার বাবুল শেখ (৩০) নিহত হয়েছেন। এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করে পালানোর সময় প্রথমে জনতা গণপিটুনি দেয়। এরপর পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় জেলার তেরখাদা উপজেলার কোদলা গাজির মোড় এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
এ সময় তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হন। নিহত বাবুল শেখের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় ১৪/১৫টি মামলা রয়েছে।
খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকনুজ্জামান জানান, একতা পান ব্যবসায়ী সমিতির নেতা নিতিশ কুমার বিশ্বাস কয়েকজন ব্যবসায়ীর ১৫ লাখ ৬৪ হাজার নিয়ে তেরখাদার সাচিয়াদাহ হাটে পান কেনার জন্য ঢাকা থেকে নড়াইল হয়ে খুলনা যাচ্ছিলেন ।
বুধবার সন্ধ্যার দিকে নড়াইলের নড়াগাতির পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছলে মোটর সাইকেল আরোহী বাবুল ও তার সহযোগীরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কাছে থাকা অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে তেরখাদার দিয়ে পালায়। মোবাইলে ঘটনাটি তৎক্ষণিক বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে জানিয়ে দেন নিতিশ বিশ্বাস।
এ খবর পেয়ে তেরখাদা এলাকাবাসী কুদলা এলাকায় চরমপন্থিদের ঘিরে ফেললে তারা জনগণের ওপর গুলি চালায়। এসময় ছাগলাদাহ ইউনিয়নের মৃত বাদশা শেখের ছেলে ইকরামুল শেখ (২৫) গুলিবিদ্ধ হন। ক্ষুব্ধ জনতা এসময় বাবুল শেখ, সাগর শেখ ও শান্তকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনজনকে নিয়ে পুলিশ টাকা ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান শুরু করে। অভিযানের এক পর্যায়ে তারা তেরখাদার কুদলা এলাকায় পৌঁছলে বাবুল শেখের সহযোগীরা তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে গুলিবিমিয় চলাকালে বাবুল শেখ নিহত হন। এ সময় তেরখাদা থানার ওসিসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন।
নিহত বাবুল শেখের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় ১৪/১৫টি মামলা রয়েছে বলে তেরখাদা থানার সেকেন্ড অফিসার প্রবীণ কুমার চক্রবর্তী জানিয়েছেন।
ঘটনার সময় পুলিশ বাবুল শেখের সহযোগী তেরখাদা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ শহিদুল ইসলামের ছেলে সাগর শেখ ও খুলনার খালিশপুর নতুন রাস্তা এলাকার শান্ত নামে দুই চরমপন্থি ক্যাডারকে আটক করে।
এসএমএ





