ভোলা সদরের ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নের ১০ গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে এসব এলাকায় প্লাবিত হয়েছে।
জোয়ারে পানিতে জেলার নিচু এলাকা বিশেষ করে রামদাসপুর, মাঝের চর, মেদুয়া, মদনপুর, নেয়ামতপুর, কুকরী-মুকরী, হাজিপুর, ঢালচর, মনপুরার কলাতলীর চরসহ বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুতে ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষ ফের পূর্ণিমায় সৃষ্ট জোয়ারের পানিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বসতভিটায় পানি ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্তসহ ভেসে গেছে পুকুর-ঘেরের মাছ ও হাঁস-মুরগি। পানিবন্দি এসব মানুষ এলাকার উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন রোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে মেঘনায় পানি ৩ দশমিক ৩২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, ইলিশা জংশন বাজার থেকে রাজাপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রোয়ানুতে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তা মেরামত করা হয়নি। এতে আমরা অনেক দিন ধরে পানির ওপর ভাসছি। নির্ধারিত সময়ে বাঁধ মেরামত হলে মানুষকে এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।
পূর্ব রাজাপুর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, জোয়ারের পানিতে বসতঘর, রাস্তাঘাট, স্কুল-মাদ্রাসা ও মসজিদ তলিয়ে গেছে। ভেঙে গেছে একমাত্র সড়কটিও। কোমর পানিতে চলাচল করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। আর কেউ কেউ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
পানিবন্দী জাকির হোসেন বলেন, এ পর্যন্ত দুবার ভাঙনের শিকার এখন জোয়ারের পানিতে ভাসছি। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কারো কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
চা-দোকানদার রফিক বেপারী বলেন, জোয়ারের পানিতে সব ভেসে গেছে, কোথায়ও আশ্রয় নেওয়ারও জায়গা নেই।
গৃহবধূ নাছিমা বেগম জানান, রোয়ানুতে ঘরভিটা ভেঙে গেছে, নতুন করে এখনো ঘর নির্মাণ করতে পারিনি। এর মধ্যে আবার জোয়ারের পানিতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হলাম।
এ ব্যাপারে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগী প্রকৌশলী মো. ইউনুস বলেন, পানির চাপ একটু বেশি, তবে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে। যে স্থানে বাঁধ নেই সেখানে পানি প্রবেশ করেছে।
এসআইএস





