যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইসলামী ব্যাংকের ঋণখেলাপিসহ ১০ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বাবুল আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ।

চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন এলাকা থেকে পোর্ট থানা পুলিশ বুধবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করে।

আটক বাবুল আক্তার বেনাপোল পোর্ট থানায় বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত বজলে রহমানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, বাবুল আক্তার মেসার্স জয়েন্ট সিলভার ট্রেডার্সের নামে ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড বেনাপোল শাখায় ২০০৪ সালের ৩০ জুলাই একটি হিসাব খোলেন (হিসাব নং সিএ-৩২৫)। তিনি এ হিসাব নম্বরে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করায় ব্যাংকের কাছে বিশ্বস্ততা অর্জন করেন।

তিনি ব্যাংক থেকে ২০০৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ সুবিধার মুঞ্জুরি প্রাপ্ত হন। ওই বছরের ১৭ অক্টোবর থেকে ২০০৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরে মধ্যে ৩৩টি ডিলের মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। শর্ত থাকে এ টাকা লাভসহ ২০০৫ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

ঋণের বিপরীতে ব্যবসায় বাবুল আক্তার ২০০৪ সালের ১ নভেম্বর ৮৯৯১ নম্বর মডগেজ দলিল ও আমমোক্তারনামা ৮৯৯২ নম্বর দলিল সম্পাদন করেন। তিনি ঢাকার মিরপুর ৯৯ নম্বর হাল মৌজার শেনপাড়ার পাঁচ কাঠা জায়গা এবং বেনাপোলের কাগজপুকুর মৌজার অন্যান্য সম্পত্তি দলিল করে ব্যাংকে জমা দেন ২০০৫ সালের ৯ নভেম্বর। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দলিলের মূল টিকিটের ডুবলিকেট করে ওই সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রি করে দেন। কাগজপুকুর মৌজার জমিতে ব্যাংকের দায়বদ্ধকৃত সাইনবোর্ড খুলে নিজেদের নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। এতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে তারা তদন্ত করেন। পরে দেখা যায়, আসামিরা ব্যাংকের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার জন্য ভুয়া দলিল সম্পাদন করেছেন।

২০০৭ সালের ২২ মে ব্যাংকের বেনাপোল শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুস সোবহান আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত করে ২০০৭ সালের ১ জুলাই মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে। পরে মামলার চার্জশিট প্রদান করে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ। টাকা আত্মসাতের মামলায় একাধিকবার জেলও খেটেছেন বাবুল আক্তার।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) অপূর্ব হাসান জানান, ব্যবসায়ী বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে ১০টি ওয়ারেন্ট রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও অর্ধশতাধিক অর্থনৈতিক লেনদেন সংক্রান্ত প্রতারণার মামলা রয়েছে।

বাবুল আক্তারের আরেক ভাই চলচ্চিত্র প্রযোজক সন্ধানী কথাচিত্র এবং বেনাপোল সার ও চাল আমদানিকারক জি এম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী গোলাম মোরশেদের বিরুদ্ধেও ২০০৯ সালের ২৭ আগস্ট বেনাপোল ইসলামী ব্যাংক থেকে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ইসলামী ব্যাংকের বেনাপোল শাখার কর্মকর্তা নুর ইসলাম।

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ