নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা গতকাল সোমবার সকাল ১০ টা থেকে লাগাতার কর্ম বিরতি পালন করছে।
এ সময় বিক্ষুব্ধ দলিল লেখকেরা সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে তালা ঝুলিয়ে অফিস বর্জন করে রাস্তায় অবস্থান করেন। অফিসে তালা দেওয়ায় সাব রেজিষ্ট্রার অফিস ছেড়ে স্থানীয় আবাসিক হোটেলে অবস্থান করায় প্রশাসনিক সকল কর্মকান্ড বন্ধ রয়েছে।
দলিল লেখকরা জানান, উপজেলা সাব রেজিষ্টার কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ গত জানুয়ারী ২০১৩ সালে এই উপজেলায় যোগদান করেন।
এ উপজেলায় ৪০ জন দলিল লিখক রয়েছে। যোগদানের পর থেকে প্রতি দলিলে নামজারি খতিয়ানের অজুহাতে প্রতি দলিলে ৮ হাজার টাকা, দান পত্র দলিলে ৫ হাজার টাকা, বন্দোবস্ত নথিতে ৪ হাজার টাকা সাব রেজিষ্ট্রারকে না দিলে দলিল লেখক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর সাথে অশালীন ও অশোভন আচরণ করেন।
প্রতিদিন শতাধিক দলিল সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে রেজিষ্ট্রি হচ্ছে। এতে সাব রেজিষ্ট্রার প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ টাকা দলিল লেখকদের কাছ ঘুষ আদায় করে মাসে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। দলিল লেখক আব্দুর রহীম, বেলাল, হালিম সহ অপর লেখকরা জানান, সাব রেজিষ্ট্রার আবুল কালামের নির্যাতনে হাতিয়ার দলিল লেখক ও লোকজনেরা অতিষ্ঠ। তাকে প্রতি দলিলে ৪-৮ হাজার টাকা ঘুষ না দিলে দলিল সম্পাদন করতে রাজী হয় না।
এমনকি দলিল লেখক ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথেও অশালীন আচরন করছে। গত ডিসেম্বর থেকে সাব রেজিষ্ট্রার মাসে ২-৩ দিনের বেশি উপজেলা অফিসে আসে না। অনতিবিলম্বে তাকে এ উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে নতুন সাব রেজিষ্ট্রার না আসা পর্যন্ত আমাদের লাগাতার কর্ম বিরতি চলবে।
এদিকে সাব রেজিষ্ট্রার আবুল কালাম আজাদ জানান, হাতিয়ায় কেন বাংলাদেশের সব সাব রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়ম চলছে। দলিল লেখকেরা নাল জমিকে পুকুর, ভিটিকে নাল জমি সাজিয়ে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়। তাদের এ অনিয়ম ধরতে গেলে আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হচ্ছে।
এসএইচ





