বাসায় ঢুকে গলা কেটে হত্যার শিকার হওয়ার আগে থেকেই নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার নিলয় চক্রবর্তী নীল। সেই আশঙ্কা থেকেই থানায় জিডি করতে গিয়েছিলেন নিলয়। তবে কোন থানাই তার জিডি গ্রহণ করেনি বলে ফেসবুকের একটি পোস্টে লিখেছেন চক্রবর্তী।
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই রাজধানীর উত্তর গোরান টেম্পোস্ট্যান্ডের কাছে একটি পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে খিলগাঁও থানার ওসি মুস্তাফিজুর রহমান জানান।
তিনি বলেন,দুপুরে জুমার নামাজের পরপর দুই দফায় চার-পাঁচজন লোক বাসা দেখতে আসার কথা বলে ওই বাসায় ঢোকে। তারা নিলয়কে জবাই করে চলে যায়।
নিহত নিলয় চক্রবর্তী নীল গত দুই বছর ধরে ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন; তিনি কাজ করতেন একটি বেসরকারি সংস্থায়। সাম্প্রদায়িকতা বিরুদ্ধে সোচ্চার এই ব্লগার ইস্টিশন ব্লগে লিখতেন নিলয় নীল নামে।
গত কিছুদিন ধরে হুমকি পেয়ে আসছিলেন বলে ফেইসবুক থেকে নিজের সব ছবি সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি ঠিকানার জায়গায় বাংলাদেশের বদলে লিখেছিলেন ভারতের কলকাতার নাম।
তাকে যে মাঝেমধ্যেই অনুসরণ করা হচ্ছিল, তা তিনি ফেইসবুকে এক পোস্টে লিখেছিলেন গত ১৫ মে। এ নিয়ে তিনি থানায় জিডি করতেও গিয়েছিলেন। তবে নিলয় কোন থানায় জিডি করতে গিয়েছিলেন সেটা তার পোস্টে উল্লেখ করেননি।
ওই পোস্টে নিলয় লেখেন, “আমাকে দুজন মানুষ অনুসরণ করেছে গত পরশু। ‘অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার’ প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে যোগদান শেষে আমার গন্তব্যে আসার পথে এই অনুসরণটা করা হয়।”
ওই ঘটনায় জিডি করতে গেলেও থানা তা নেয়নি বলে ওই পোস্টে লিখেছিলেন তিনি। ''অনেকগুলো থানা অতিক্রম করার জন্য গতকাল ঘটনাস্থলের আওতায় থাকা একটি থানায় গেলে তারা জিডি নিল না, তারা বললো আমাদের থানার অধীনে না, এটা অমুক থানার অধীনে পড়েছে ওখানে যেয়ে যোগাযোগ করুন, আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশ ছেড়ে চলে যান।”
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের বলেন, “নিলয়ের গলা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কোপের চিহ্ন রয়েছে। এর আগে অন্য ব্লগারদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, এক্ষেত্রেও হত্যাকাণ্ডের ধরণ একই রকম।”
এ ঘটনাকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে কৃষ্ণপদ বলেন, “জুমার নামাজের সময় যখন আশেপাশের বাসার পুরুষরা নামাজে গেছেন, সেই সময়টিকেই তারা বেছে নিয়েছে।”
এআর





