বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনে ভারত থেকে দেশে ফেরত এক পাসপোর্টধারী যাত্রীর লাগেজ ‘পার করা নিয়ে’ ইমিগ্রেশন পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে চার কর্মকর্তা আহত হওয়ার দাবি করেছেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এ নিয়ে উত্তেজনায় বুধবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টযাত্রী পারাপার বন্ধ ছিল।

পরে পুলিশ ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট থেকে পাসপোর্টযাত্রী পারাপার স্বাভাবিক হলেও আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমসের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

আমদানি-রপ্তানিসহ বেনাপোল কাস্টমস হাউজ, বন্দর এলাকায় কর্মরত কাস্টমস কর্মকর্তারা কাজ বন্ধ করে দিয়ে চেকপোস্টে অবস্থান করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও চেকপোস্ট সংশ্লিষ্ঠ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনে ভারত ফেরত পাসপোর্টধারী যাত্রী সৌরভ আলী খান (যার পাসপোর্ট নং- বিএম-০৭০৫৭২০ ও বিএইচ-০৭৫১২২৪) বিপুল মালামাল নিয়ে বুধবার বিকেলে দেশে প্রবেশ করেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদরের কাজিম আলী খানের ছেলে।

এসময় তার লাগেজ কাস্টমস পার করে দেয়ার জন্য ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গে যাত্রী চুক্তি করেন। পরে কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্রে ওই লাগেজ আসলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ লাগেজটি আটকে দেয়। এসময় পুলিশ সমঝোতার কথা বললে কাস্টমস কর্মকর্তারা ১২ হাজার টাকা দাবি করেন।

পুলিশ ১২ হাজার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় এসময় পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও কাস্টমসের লোকবল বৃদ্ধি করা হয়।

পরে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তা পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে কাস্টমসের চার কর্মকর্তা আহত এবং কাস্টমস অফিসও ভাংচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত পাসপোর্টযাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে যাত্রীরা সেখান থেকে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

খবর পেয়ে কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মারুফুর রহমান ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি-নাভারন সার্কেল) ইমরান আহমেদ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এসময় দুপক্ষের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে কিছুটা সমঝোতা হলে সীমান্তের দুপাশে আটকে পড়া শত শত পাসপোর্টযাত্রীকে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়।

সৌরভ আলী খান বলেন, ইমিগ্রেশন কার্যাদি শেষে কাস্টমস হয়ে বের হওয়ার সময় গতিরোধ করে কাস্টমস সদস্যরা ঘুষ দাবি করেন। পরে ইমিগ্রেশন ওসি ওমর শরীফের সাহায্য নেই।

তিনি বলেন, ওসি প্রতিবাদ করলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন কাস্টমস সদস্যরা। এসময় ইমিগ্রেশনের অন্য পুলিশ সদস্যরা প্রতিবাদ করলে কাস্টমস ও পুলিশের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিসহ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন কাস্টমস ও পুলিশ সদস্য রক্তাক্ত জখম হন। মারামারি শেষে পণ্যগুলো ডিএম (ডিটেনশন মেমো) করে দেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

জেড