বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে মরণঘাতী করোনাভাইরাস। ভাইরাসটিতে এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বের ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৯ জন।
প্রাণ গেছে ৪২ হাজার ৩৪৫ জন মানুষ মারা গেছে। গোটা বিশ্ববাসীই এখন করোনার ভয়ে আতঙ্কিত। অনেকেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় কোয়ারেন্টাইনে ও আইসোলেশনে আছেন। যার মধ্যে বাংলাদেশও মরণঘাতী করোনার ছোবলে।
করোনার এই দুর্যোগে বহু মানুষ যখন কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে আছেন। অর্থাভাবে যখন অনেক নিম্নবিত্ত পরিবারের উনুনে হাড়ি বসছে না, নিম্নবিত্ত অসহায় মানুষ গুলোর অসহায় মানুষের ধারে ধরা দিলেন দাতা হাতেম তাই হয়ে উজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেখালেন নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতজা বেগম।
নিজের এক মাসের বেতন সেসব মানুষের সাহাযার্থে তিনি দান করে দিলেন। শুধু বেতনই নয়, এর সাথে বৈশাখের উৎসব ভাতাও তিনি তুলে দিয়েছেন জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিলে। যা মানবিকতার উজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
এমনকি শীতে কাপছে পুরো দেশ ঠিক তখনই অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম। অসহায় শীতার্ত মানুষদের একটু উষ্ণতার পরশ দিতে মমতাময়ী মায়ের মতো শীতার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম।
সূত্র জানায়, রূপগঞ্জ উপজেলাজুড়ে নিজ কর্মগুণে অনেক আগেই বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন ইউএনও মমতাজ বেগম। সদা হাস্যোজ্জ্বল স্বভাবের এই কর্মকর্তা ভ্রম্যমান আদালত থেকে শুরু করে সরকার প্রদত্ত সবটুকু দায়িত্বই তিনি নিজের কর্তব্য মনে করে পালন করে ইতোমধ্যে প্রশংসতি হয়েছিলেন। রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছেও রয়েছে তার যথেষ্ট কদর। কোনো সমস্যা নিয়ে তার কাছে কেউ গিয়েছেন আর সেটি করার সাধ্য তার রয়েছে অথচ তিনি সেটি না করেই ফিরিয়ে। দিয়েছেন কাউকে, এমন রেকর্ড তার নেই বলেই স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে সকল কর্মকর্তা কর্মচারির সাথেও তার সম্পর্কটা অত্যন্ত সুহৃদের। মতো। তবে, কাজ আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি জানলে কঠোর। অবশ্য ধমকিয়ে কাজ আদায় করেন না। বরং প্রতিটি মানুষই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বর্তমানে করোনার এই দুযোর্গে রূপগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিরলসভাবে নিজেদের দায়িত্বের বাইরেও অনেক কাজ করে চলেছেন। আর এটা সম্ভব হয়েছে। একমাত্র মমতাজ বেগমের আন্তরিকতায়।
এদিকে করোনার দুর্যোগে অসহায় মানুষের সাহাযার্থে নিজের বেতন ও বৈশাখী উৎসব ভাতা দান করার সংবাদে উপজেলাজুড়ে ব্যাপকল আলোচনা হচ্ছে। সর্বস্তরের মানুষ তাকে সাধুবাদ। জানাচ্ছেন।
মমতাজ বেগম বলেন, অনুদানের পরিমাণটা খুব বেশি নয়। সামান্য। এক মাসের বেতন আর বৈশাখী উৎসব ভাতা মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক স্যারের কাছে পাঠিয়েছি। আমার অনুরোধ থাকবে, এই পরিস্থিতিতে যার যতটুকু সমর্থ আছে তারা যেন অসহায় মানুষগুলোর পাশে এসে দাঁড়ায়। সরকারের পাশাপাশি আমাদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কর্তব্য বলেই মনে করি।
এএস





