গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, আগামী ৩০ মার্চ বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুপুর ১২টা থেকে একটা পর্যন্ত মানববন্ধন করা হবে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তাবৃন্দ তনু হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন।

রোববার (২৭ মার্চ) বিকেলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে কুমিল্লা নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ের পূবালী চত্বরের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য শেষে তিনি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এসময় তিনি হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।

ইমরান এইচ সরকার বলেন, সেনানিবাসে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকে। যেখানে সাধারণ মানুষ ঢুকতে পারেনা। সেখানে কীভাবে তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হলো ? আমরা চাই না সেনাবাহিনীর হাতে রক্তের দাগ, ধর্ষণের কালিমা থাকুক। তনুর ঘাতকদের সনাক্ত করে বিচারের দায়িত্ব সেনাবাহিনী নিতে পারে। এতে করে সারা বিশ্বে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পাবে। আমরা চাই সেনাবাহিনী সিভিল প্রশাসনকে সহায়তা করুক।

ইমরান এইচ সরকার বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিচারের ক্ষেত্রে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখতে পারতো, কিন্তু তা রাখা হয়নি। আমরা চাই ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হোক। এটা সরকারের কাছে আমাদের দাবি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন ফাঁকা হয়ে গেছে। ব্যাংকের রির্জাভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা লুট হয়ে গেছে। অথচ আমাদের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এটা নাকি কিছুই না। তিনি এ কথা বলে চোর-বাটপারদের জানালেন তোমরা এবার ৪০ হাজার কোটি টাকা লুট করতে পারো।

ইমরান আরো বলেন, ৮০০ কোটি টাকা লুটের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরপরই তনুকে হত্যা করা হলো। ব্যাংক লুট আর তনু হত্যা দু’টি কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি দু’টি একই সূত্রে গাথাঁ। ব্যাংক লুটের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কি তনুকে হত্যা করা হলো! সারাদেশ তনু হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল। আর তাই ব্যাংক লুটেরাদের মুখে মুচকি হাসি। তবে আপনারা রক্ষা পাবেন না।

তিনি বলেন, আমাদের সাধারণ মানুষকেই একত্র হয়ে রাজপথে নেমে সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করে শান্তির বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ইমরান এইচ সরকার আরো বলেন, তনু আমাদের বাতিঘর, সে আমাদের আলোর মশাল। তনু আমাদের পথ দেখিয়েছে। তনুর বাবা না হয়ে যদি সেনানিবাসে এমন ঘটনা কোনো মন্ত্রীর সঙ্গে ঘটতো তাহলে দেখা যেত সেনানিবাস থেকে এতদিনে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হত।

১৯৯৫ সালে ইয়াসমিনকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছিল। ওই সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ইয়াসমিনের ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রী নামছেন না কেন? আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীও তনু হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে রাজপথে নামুক।

এ সময় গণজাগরণ মঞ্চের অন্যান্য সংগঠক ও কুমিল্লা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভ সমাবেশ সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় শেষ হয়।

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে ২০ মার্চ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ওএফ