কর্ণফুলী নদীতে অগ্নিকাণ্ডের পর ডুবে যাওয়ার ঘটনার বিষয়ে নদীর সীমানা এলাকার তিনটি থানার কোনটি নিশ্চিত করতে পারেনি। সীমানা নিয়ে রশি টানাটানিতে কোন থানায় এত বড় দুর্ঘটনার খবর রাখেনি।

এদিকে শনিবার মাছ ধরার ট্রলার থেকে দু’জনের দগ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছাবের আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন,‘ ‘ট্রলারটি আগুনে পুড়ে নদীতে ডুবে গেছে। বিকাল পাঁচটার দিকে ট্রলারটি নদী থেকে তোলা হলে ট্রলারের ভেতর থেকে দু’জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তাদের বাড়ি নোয়াখালী জেলার রামগতি বলে জানা গেছে। আরও দু’জন জেলের হদিস এখনো মেলেনি।’

এদিকে এ ঘটনায় নদীর সীমানার এলাকার কোন থানায় তথ্য দিতে পারেনি। এক থানার কর্মকর্তা অন্য থানার কর্মকর্তার উপর দায় চাপিয়েছেন।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই। কোতোয়ালী থানা সীমানায় কোন নদী নেই। কর্ণফুলী থানায় খবর নিতে পারেন।’’

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন,‘‘ট্রলারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কর্ণফুলী নদীর উত্তর অংশে ঘটেছে। তাই এটা আমার থানার সীমানায় পড়েনি। এ বিষয়ে সদরঘাট থানা বলতে পারবে।’

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ‌আবুল কালাম আজাদ বলেন,‘ঘটনা শুনেছি। তবে এটি সদরঘাট থানার সীমানায় না পড়ায় আমরা কোন খোঁজ খবর নেইনি। এটি কর্ণফুলী থানায় পড়তে পারে।’

এর আগে সকালে কর্ণফুলী নদীতে একটি মাছ ধরার ট্রলারে আগুন লাগে। ট্রলারটি পুড়ে ৮জন মাঝিমাল্লা নিয়ে ডুবে যায়। স্থানীয় লোকজন চারজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যজনকে ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসক জানান, ‘তিনজনের মধ্যে লিটনের অবস্থান গুরুতর। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। অন্য দুইজনের ২২ শতাংশ ও ৪ শতাংশ পুড়েছে।’

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ