তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোলার মনপুরায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠি চার্জের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৬ পুলিশ ১ সাংবাদিকসহ অন্তত ৩৬ জন আহত হয়েছে।

এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। আহতদের মনপুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বুধবার (২ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ৯ টায় উপজেলার হাজির হাট বাজারে দেড় ঘন্টাব্যাপি পুলিশের সাথে ব্যবসায়ীদের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সোয়া ১১ টায় স্থানীয় নের্তৃবৃন্ধেদের হস্ত ক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পুলিশের শর্টগানের গুলিতে আহতরা হলেন- দৈনিক ভোরের পাতার স্থানীয় প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম মামুন, ব্যবসায়ী সোয়েব, মো. ইব্রাহীম, আবু তাহের, শরিফ, নুরুউদ্দিন, তরিকুল ইসলাম, আরিফ, হারুন, কবির, নাহিদ, হারুন, রাকিব, হোসেন, লিটন ফরাজী, মোসলেহ উদ্দিন, জামাল নুরুউদ্দিন, নুরইসলাম, কুটি মাঝি, আবদুর রহমানের নাম পাওয়া গেছে। অপরদিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপে আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, ওসি শাহীন খান, এএসআই প্রদীপ, পুলিশ সদস্য জুনায়েদ, আরিফ, জসিম, আবদুল হালিম, নাইম।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজিরহাট বাজারের ফলের ব্যবসায়ী হারুন, আবদুর রহমান ও হাসানের দোকান উচ্ছেদ ও ব্যবসায়ীদের মারধর করে পুলিশের ওসি শাহীন খান। পরে ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাৎক্ষনিক দোকানপাট বন্ধ রেখে পুলিশের বিরুদ্ধে মিছিল বের করে।

একপর্যায়ে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যবসায়ীদের উপর কয়েক রাউন্ড শর্টগানের গুলি করলে ব্যবসায়ীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের গুলিতে দৈনিক ভোরের পাতার স্থানীয় প্রতিনিধিসহ ৩০ ব্যবসায়ী আহত হয় এবং ব্যবসায়ীদের ইট-পাটকেলে ৬ পুলিশ আহত হয়।

বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন জানান, বিনা নোটিশে পুলিশ তিন ব্যবসায়ীর ফলের দোকান উচ্ছেদ করার সময় মারধরের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে মিছিল করে। পরে পুলিশ বিনা উসকানিতে ব্যবসায়ীদের উপর বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে। এতে ২৫/৩০ জন ব্যবসায়ী আহত হয়।

মনপুরা থানার ওসি শাহীন খান জানান, রাস্তার উপর থেকে ফলের দোকান উঠাতে যাই। পরে ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনতে শর্টগানের গুলি করা হয়।

শাহীন/এমবি