কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা বিপৎসীমার ওপরে উঠে গেছে। আজ সকাল ১০টায় হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করেছে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ৮ সেন্টিমিটার বাড়ে।

যেভাবে পানির উচ্চতা বাড়ছে, তাতে এবার ১৬ বছরের রেকর্ড ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পাউবো কর্মকর্তারা।

এদিকে পানি ক্রমেই বাড়তে থাকায় গড়াই নদের পানি ফুলে উঠেছে। এতে কুষ্টিয়ার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। সকাল ছয়টায় গড়াইয়ে কুমারখালী রেলসেতু পয়েন্টে পানির উচ্চতা পরিমাপ করা হয় ১২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার। গড়াইয়ের বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পদ্মার পাশাপাশি শাখা গড়াই নদেও পানি বেড়ে যাচ্ছে। পদ্মা ও গড়াইসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাড়িঘরেও পানি প্রবেশ করেছে।

আগে থেকে বন্যাকবলিত দৌলতপুর উপজেলার দুই ইউনিয়নে সরকারিভাবে সহায়তা দিতে ঢাকা থেকে ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার জেলায় পৌঁছেছে। আজ চরাঞ্চলের বানভাসি মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

এদিকে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড হাইড্রোলজি বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম জহিরুল হক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার। আর সকাল ১০টায় বিপদসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করেছে। এর আগে সকাল ৯টার পরিমাপ অনুযায়ী, বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল পানি।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিপদসীমা অতিক্রম করলো পদ্মার পানি। সর্বশেষ ২০০৩ সালে এই পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। 

ভারি বৃষ্টিপাতের জেরে সৃষ্ট বন্যা থেকে ভারতের রাজ্য বিহারের রাজধানী পাটনাসহ আরো ১২ জেলাকে রক্ষার জন্য ফারাক্কা বাঁধের ১১৯টি গেটের সব খুলে দিয়েছে ভারত। 

গতকাল সোমবার ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের একাংশ ও বাংলাদেশে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মালদা জেলার ফুলহর, মহানন্দা ও কালিন্দী নদীতে পানি বাড়ছে। সেখানে একাধিক জায়গায় নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। চরম বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে গঙ্গা ও ফুলহর। 

এরপরই রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সৈয়দ সাহিদুল আলম বলেছিলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক দিনে ১১ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হয়তো সব গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া টানা বর্ষণের কারণেও পদ্মার পানি বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে ১৭ দশমিক ৯৮ সেন্টিমিটারে। দুই দিনের মধ্যে বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করতে পারে। এতে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

এএস