কক্সবাজারের চকরিয়ায় বোনকে হত্যার দায়ে ভাই নূরুল আমিনকে (৩৬) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। একই রায়ে আদালত তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মহিতুল হক এনাম চৌধুরী এ রায় দিয়েছেন।
দণ্ডিত আসামি নূরুল আমিন কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার রামপুর ওমখালী গ্রামের মৃত কলিমদাদ ফকিরের ছেলে। নূরুল আমিন বর্তমানে পলাতক আছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো.আইয়ূব খান বাংলানিউজকে বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দায়ের হওয়া মামলাটি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে ২০১৫ সালের ১০ জুন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য আসে।
১২৮ কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্কসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালত রায় দিয়েছেন। আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার আদেশ দিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর ওমখালীতে নিজ বাড়িতে বোন জাহানারা বেগমকে (৫০) কুপিয়ে খুন করে আপন ছোট ভাই নূরুল আমিন। জাহানারা ও নূরুল আমিনের দুই শিশু সন্তানের ঝগড়ার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
খুনের ঘটনায় পুলিশ নূরুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে। ওইদিনই জাহানারার মেয়ে কোহিনূর বেগম বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার হওয়া নূরুল আমিন ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
২০০৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর চকরিয়া থানা পুলিশ নূরুল আমিনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১০ সালের ২১ জুন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ নির্মল কান্তি চৌধুরী নূরুল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন।
পিপি আইয়ূব খান বাংলানিউজকে জানান, ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর আসামি নূরুল আমিন তার মা মারা গেছে বলে আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জামিন নেন।
তার জামিনের আবেদন করেন কক্সবাজার আদালতের অ্যাডভোকেট এম জাকারিয়া। জিম্মানামায় ওই আইনজীবীর পাশাপাশি নূরুল আমিনের ভাই মনিরুল ফেরদৌসও স্বাক্ষর করেন।
পরবর্তীতে নূরুল আমিন পলাতক হয়ে যান। গত বছরের ১৩ আগস্ট যে মাকে মৃত সাজিয়ে নূরুল আমিন জামিন নেন সেই মা রোকেয়া বেগম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এসে ছেলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন।
এমকে





