নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় বিদেশে চাকরির লোভ দেখিয়ে দুই বোনকে গণধর্ষণের পর ভারতে পাচার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাচার দুই বোনকে মুম্বাইয়ের একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয় পানবপাচারকারী চক্র। সেখান থেকে বড় বোন গ্রেফতার হন মুম্বাই পুলিশের হাতে। ছোট বোন সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন।

ভারত থেকে পালিয়ে আসা ছোট বোন অভিযোগ করেন, তারা দরিদ্র হওয়ায় সাংসারিক অভাব-অনটনে দিন কাটছিল। এ সুযোগে পাশের শালমদী গ্রামের মানবপাচারকারী আলী হোসেনের ছেলে রশিদ ও তার বোন আবেদা তাদের ইন্দোনেশিয়া নিয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করেন।

রশিদ ২২ জুলাই সন্ধ্যায় তাদের দুই বোনকে খবর দেন- যে লোক বিদেশে নিয়ে যাবেন তিনি এসেছেন, তার সঙ্গে দেখা করার জন্য। এ সংবাদ পেয়ে তিনি রাত ১০টার দিকে রশিদের বাড়িতে যান। তাকে ঘরে নিয়ে কথা বলার ফাঁকে জোরপূর্বক রশিদ ও ঢাকা থেকে আসা ব্যক্তি ধর্ষণ করেন।

তিনি বিষয়টি অভিভাবক ও থানা পুলিশকে জানানোর কথা বললে রশিদ ও অপর ব্যক্তিটি থানা পুলিশকে না জানানোর জন্য মেয়েটিকে প্রাণনাশের হুমকি ও থানা পুলিশকে না জানালে তাদের দুই বোনকে বিনা খরচে ইন্দোনেশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দেন।

২৮ জুলাই মানবপাচারকারী ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার কাগজপত্র তৈরি করার কথা বলে তাদের দুই বোনকে ঢাকার একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখান থেকে ইমরান নামে এক লোক বাসে করে সাতক্ষীরার বর্ডারে নিয়ে যান। সেখানে দু’দিন একটি বাড়িতে আটক করে ইমরানসহ তিনজন মিলে তাদের দুই বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

ওই স্থান থেকে রকি তাদের ট্রেনযোগে ভারতের মুম্বাইয়ে নিয়ে একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেন। সেই পতিতালয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের দুই বোনের ওপর চলতে থাকে অমানুষিক পাশবিক অত্যাচার।

১১ আগস্ট বোম্বে পুলিশের একটি দল ওই পতিতালয়ে হানা দিয়ে বড় বোনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ছোট বোনকে খুঁজতে থাকলে সেখানের এক লোকের মাধ্যমে পালিয়ে বর্ডার পার হয়ে ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন তিনি। পরে বিভিন্ন লোকের সহযোগিতায় তিনি খুব অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে আসেন।

এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আরিফুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এআই