সিলেটের ‘প্রকৃতি কন্যা’ জাফলংয়ের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবার প্রশাসন মাঠে নেমেছে বেশ জোরেশোরেই। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশেষ টাস্কফোর্স সেখানে পাথর ভাঙার ১১টি ক্রাশার মেশিন উচ্ছেদ ও ৭টি বোমা মেশিন বিনষ্ট করে দিয়েছে। এছাড়া পাশের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে অভিযান চালিয়ে ২০টি বোমা মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে।
টাস্কফোর্স সূত্র জানায়, জাফলংয়ের পাথরটিলায় হাজী অখন মিয়ার জোন ও মামার বাজারের মেলার মাঠ নামক স্থানে এবং পিয়াইন নদীর লামাপুঞ্জি এলাকায় গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলওয়ার হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের সিনিয়র কেমিষ্ট সাইফুল ইসলামসহ পুলিশ ও বিজিবি’র শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন ও বৈধ কাগজ-পত্র ছাড়া যে সকল ক্রাশার ও বোমা মেশিন স্থাপন করা হয়েছে সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের অভিযান নিয়মিত চলবে।’
এদিকে ভোলাগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা, কালাইরাগ ও উত্ময়ে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ২০টি বোমা মেশিন ও মেশিনের সরঞ্জামাদি আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য দেড় কোটি টাকা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল লাইছের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেয় পুলিশ ও বিজিবি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগেও টাস্কফোর্স ভোলাগঞ্জ ও জাফলংয়ে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যকলাপ বন্ধে অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু অতি লোভী পাথরখেকোরা বার বার পাথর কোয়ারিগুলোতে দিনে বা রাতের আঁঁধারে বোমা মেশিন লাগিয়ে পাথর আহরণ করে। যা প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ করে চলছে। আর পর্যটকদের জন্য চরম বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
কর্মকর্তারা জানান, এসব পাথরখেকোদের কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। তার প্রধান কারণ এক রাতেই বোমা মেশিন চালালে কয়েক লাখ টাকা পকেটে আসে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হলে সরকারে সদিচ্ছার সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের অঙ্গীকার থাকতে হবে। নতুবা জাফলং এক সময় বিরান ভূমিতে পরিণত হবে।’
এমএনজে





