সঠিক নেতৃত্ব ও সরকারি অর্থের সুষ্ঠ বন্টনের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে ইন্দুরকানীর পত্তাশী ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকান্ড। এ ক্ষেত্রে সমন্বয়হিনতা ও অনৈক্যও সমান ভাবে দায়ী বলে মনে করছেন ইন্দুরকানী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুর রহমান সোহাগ।

পত্তাশী ইউনিয়নের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন তিনি। তার মতে পত্তাশী ইউনিয়নের বাসীন্দাদের প্রধান মৌলিক চাহিদার কয়েকটি পূরণ হচ্ছে ঠিকই। তবে বিশেষ কিছু চাহিদার অভাব থেকেই যাচ্ছে।

তিনি বলেন স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের মত করে খাদ্য ও বস্ত্রের এখন আর তেমন একটা অভাব মানুষের মধ্যে নেই। এখনকার মানুষের মধ্যে উন্নত কিছু চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে। যেমন পাকা রাস্তা ঘাট, বিদ্যুৎ, সুষ্ঠ শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ও বিনোদন ইত্যাদি চাহিদা বিশেষ ভাবে লক্ষনীয়।

এলাকার উন্নয়নের জন্য সর্ব প্রথম সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। হিংসাত্মক রাজনীতি থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসাটা জরুরী। উন্নয়নের স্বার্থে যে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। এলাকার শান্তি শৃংঙ্খলা ও উন্নয়ন অগ্রগতি অক্ষুন্ন রাখতে একাত্মতা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা।

সাইফুর রহমান সোহাগ ইন্দুরকানী উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামের মরহুম মনসুর আলী (মহুরী) হাওলাদারের কনিষ্ঠ পুত্র। যিনি বর্তমানে সৌদি আরবে ব্যবসা করছেন। পত্তাশী ইউনিয়নের মাটি ও মানুষের উন্নয়নের জন্য রয়েছে তার ব্যপক পরিকল্পনা।

তার মতে পত্তাশীর উন্নয়নের জন্য যে কাজ গুলো অগ্রাধিকার দেয়া দরকার: 

গ্রামীন সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নঃ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইউনিয়নের সকল মাটির রাস্তা গুলোকে পাকা করনের ব্যবস্থা করা। নিয়মিত রাস্তা মেরামত। ভাঙ্গন কবলিত খালপাড়ে পাইলিং এর ব্যবস্থা করা। বরাদ্দ সাপেক্ষে ছোট বড় সকল সাঁকোর স্থলে পুল ও কালভার্ট নির্মান। সর্বোপরি সড়ক যোগাযোগের সার্বিক উন্নয়ন সাধন।
মাদক নিরোধঃ মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে ইউনিয়নের যুব সমাজকে রক্ষার্থে যে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।
বাজার উন্নয়নঃ ইন্দুরকানী বাজারে জরুরী ভিত্তিতে ড্রেন ও গন সৌচাগার নির্মান। এছাড়া ইউনিয়নের প্রতিটি বাজারে সৌচাগার নির্মান জরুরী।

তথ্য প্রযুক্তির প্রসারঃ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে তথ্য প্রযুক্তির ব্যপক প্রসার ঘটাতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই এর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যার মাধ্যমে ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগন প্রযুক্তিগত সেবা গ্রহণ করতে পারবে। ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রকে আরও আধুনিক করতে হবে। তথ্য সেবা মানুষের দোরগোরায় পৌছে দিতে হবে।

দারিদ্র্য বিমোচনঃ ইউনিয়নের দারিদ্র বিমোচনে সর্বাপেক্ষা পদক্ষেপ গ্রহণ। এক্ষেত্রে একটি বাড়ি একটি খামার এর মত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচীতে হতদরিদ্রদের সম্পৃক্ত করা। ক্ষুদ্র ব্যবসা ও হস্ত শিল্প প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে ভুমিকা রাখতে হবে।

শিক্ষার সুষ্ঠ ব্যবস্থাঃ ইউনিয়নের সকল শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠ শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে অবাধে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে ছাত্রীদের পথে ঘাটে উত্ত্যক্ত করার বিরুদ্ধে কঠর পদক্ষেপ নিতে হবে।

চিকিৎসার অগ্রগামীতাঃ গ্রামীন চিকিৎসার অগ্রগামীতার জন্য নিয়মিত কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম তদারকি করতে হবে। হতদরিদ্রদের জন্য ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প করা। ইউনিয়নের মধ্যে সল্প খরচে যাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা যাতায়াত করতে পারে সে জন্য পরিষদের যানবাহনের ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে।

শিশু ও নারী স্বাস্থ্যের নিরাপত্তাঃ শিশু ও নারী স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য স্বাস্থ্য কর্মীর মাধ্যমে তদারকি বৃদ্ধি এবং ব্যবস্থা গ্রহণ। প্রান্তিক নারী ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

কৃষি সম্প্রসারণঃ কৃষি ক্ষেত্রকে আধুনিকায়ন করতে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। কৃষকদের গুরুত্ব সর্বাগ্রে বিবেচিত করতে হবে। পরিত্যাক্ত ভূমিকে কৃষির আওতায় নিতে যে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন। কৃষকদের প্রশিক্ষন ও উৎসাহ বৃদ্ধি করতে হবে। ইউনিয়নের সকল সড়কে বৃক্ষ রোপন করতে হবে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নঃ ইউনিয়নের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সকলকে সচেষ্ট হতে হবে। পরিত্যক্ত ভূমিতে কৃষি কাজ করতে হবে। বৃক্ষ রোপনে সবাইকে আগ্রহী করে তুলতে হবে। কুটির শিল্পকে প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণ।

যুব উন্নয়নঃ যুব উন্নয়নের জন্য যুব সমাজকে বিভিন্ন সভা সেমিনারের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদের বেকার সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সমবায় ভিত্তিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বিশুদ্ধ পানিঃ বিশুদ্ধ পানির উৎস তৈরীতে সকলকে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। গুরুত্ব পূর্ন স্থানে পানির ফিল্টার স্থাপন করা দরকার।

কেফায়েত/জারিফ