অযন্তে-অবহেলা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার শিলাইদহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কাচারি বাড়ি। এরই মধ্যে চুরি হয়ে গেছে কাচারি বাড়ির জানালা দরজাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র। এছাড়াও ধ্বংসের মুখে কাচারি বাড়ির অদূরে অবস্থিত কবির দাতব্য চিকিৎসালয়টিও।
এ অবস্থায় কুঠিবাড়ির মতো রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত এই স্থাপনাগুলোও সংরক্ষণের দাবি এলাকাবাসীর। বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ কুঠিবাড়ির পরিচিতি সারা বিশ্বব্যাপী। সরকারের প্রত্নতত্ব বিভাগ কুঠিবাড়ির তত্বাবধান করেন। তবে কুঠিবাড়ির খুব কাছেই বিশ্বকবির স্মৃতিধন্য আরেকটি কাচারী বাড়ি, যার খোঁজ কেউ রাখেনা কেউ। কাচারী বাড়িটি অনেকটা লোক চুক্ষুর অন্তরালেই রয়েছে গেছে। স্থানীয় রবীন্দ্র গবেষক কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরওয়ার মুর্শেদ বলেন, ১৮৯১ সাল থেকে প্রায় ৩০ বছর এই বাড়িতে বসে রবীন্দ্রনাথ জমিদারির খাজনা আদায় করেছেন। তিনি জানান, পূর্ববঙ্গে (বর্তমান বাংলাদেশ) মূলত শিলাইদহই ছিল রবীন্দ্রনাথের কেন্দ্রবিন্দু।
কবি এখান থেকেই শাহাজাদপুর, পতিসর যাতায়াত করতেন। স্থানীয়রা জানায়, কিছুদিন আগেও এখানে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাজ চলতো। তবে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের ফলে ইউনিয়ন ভূমি অফিস এখন সেখানে বসানো হয়েছে। এ কারণে কাচারী বাড়িটি এখন পরিত্যক্ত।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অপূর্ব কারুকাজ সমৃদ্ধ দোতলা কাচারী বাড়িটি আগাছা আর বন্য লতা-গুল্মে ছেয়ে গেছে। পাইক পেয়াদা আর বরকনদাজদের হাঁক ডাকে একদিন মুখরিত থাকতো যে বাড়ি আজ সেখানে সুনসান নিরবতা।
কাঁচারী বাড়ির ৫ একর জমির বেশ কিছুটা ইতিমধ্যে দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। স্থানীয় হাবিব চৌহান নামে এক ব্যক্তি বলেন, কুঠিবাড়ির মত কাচারী বাড়ির পরিচিতি নেই, তাই দর্শনার্থীরা তেমন একটা আসে না এখানে।
এ বিষয়ে শিলাইদহ কুঠিবাড়ির জিম্মাদার মখলেচুর রহমান ভূঁইয়া জানান, বর্তমানে কাচারী বাড়িটি জেলা প্রশাসনের অধীনে রয়েছে। তাই তারা চাইলেও বাড়িটির উন্নয়ন বা সংরক্ষণে কিছু করতে পারছেননা।
সবুজ/নাজিব





