শনিবার (২ মে) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি।
তিনি জানান, রোববার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন। সম্মেলনে নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান নাসিমুল গনি।
প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব সবচেয়ে বেশি এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন সহজলভ্য করা, উপজেলা পর্যায়ে অ্যাম্বুল্যান্স সরবরাহ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য যাচাই ব্যবস্থা এবং জেলা কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত থাকতে পারে, তবে সরকারি কাজে দলীয় প্রভাব পড়া উচিত নয়।
সম্মেলনের কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা হবে। দিনশেষে ডিসিরা বঙ্গভবন-এ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
দ্বিতীয় দিনে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হবে এবং ডিসিরা জাতীয় সংসদ ভবন-এ স্পিকারের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
তৃতীয় দিনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে আলোচনা হবে। একই দিনে ডিসিরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ভবন-এ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা শেষে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সভা ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারি নীতিনির্ধারণ ও মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এবারের ডিসি সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এস