গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুর জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় শতাধিক পুকুর ডুবে মাছ ভেসে গেছে। গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা বৃষ্টির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃষ্টির পানিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চরাঞ্চলের মেঘনা নদী এলাকায় পানি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার পাশাপাশি অনেক বসতঘরে হাঁটুপানি জমে। বৃষ্টিতে আউশ ধানসহ কোনো ফসলের তেমন ক্ষতি না হলেও ভেসে যাওয়া পুকুর মালিক ও মাছচাষীদের পড়েছে মাথায় হাত। এতে বড় অংকের লোকসান গুনতে হবে তাদের।

ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর মালিক ও মাছচাষীরা জানান, টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে রায়পুর উপজেলার পৌর শহেরর দেনায়েরপুর, মধুপুর, চরআবাবিল, কেরোয়া, বামানী, চরপাতা, রামগঞ্জ উপজেলার, ইছাপুর, চণ্ডীপুর, নোয়াগাঁ, কাঞ্চপুর, সদর উপজেলার হামছাদি, দালালবাজার, রসুরগঞ্জ, মাহাদেবপুর ও কমলনগর-রামগতি উপজেলায় প্রায় শতাধিক পুকুর ডুবে কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এ ছাড়া মেঘনা তীরবর্তী চরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষ বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়াম্যানরা এলাকা পরিদর্শন করে তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।

নদীর পানি বৃদ্ধির বিষয়ে সিআইপির নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. শওকত আলী জানান, টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি একটু বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তা বিপদসীমার নিচে রয়েছে। রায়পুরের বিভিন্ন পুকুর ডুবে মাছ ভেসে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়রা তাকে ফোনে জানিয়েছেন। প্রকল্পের ভেতরে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আলম বলেন, গত তিন দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টিতে পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার খবর আমাকে স্থানীয় কোনো চেয়রাম্যান বা কেউ জানাননি। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

জেআই