অবৈধভাবে মদ বিক্রি করে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে নাটোর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এমএ তালহার বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এছাড়া তালহাকে রাজস্ব ফাঁকি দিতে সহযোগিতা করায় সাবেক কাস্টম কমিশনার ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহম্মদ নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও মামলা হবে।
অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার সুপারিশের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুদক এ দুজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়।
দুদক সূত্র জানায়, সাবেক সাংসদ তালহার মালিকানাধীন মেসার্স পোর্টল্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড একটি বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান।
এ প্রতিষ্ঠান মংলা বন্দরে আগত বিদেশি জাহাজের নাবিকদের নিকট মদ,বিয়ার,হুইস্কি এবং প্রসাধনী সামগ্রী সরবরাহের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিদেশ হতে পণ্য আমদানি করে।
কিন্তু শুল্ক কর্মকর্তাদের সহায়তায় এই বন্ডেড ওয়্যার হাউজের সুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করা পণ্য বিদেশি নাবিকদের পরিবর্তে অবৈধভাবে দেশের ভেতরে বিক্রি করে।
এ ঘটনায় পোর্টল্যান্ড সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে এক কোটি ৭৯ লাখ ৯৪ হাজার ৩৬০ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ দালিলিকভাবে প্রমাণিত হয়।
কিন্তু ২০০৯ সালে মংলা কাস্টম হাউসের তৎকালীন কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিল ট্রাইবুনালের কমিশনার মো. নূরুল ইসলাম এক 'ন্যায়-নির্ণয়ন আদেশ' জারি করে বলেন, রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
পরে নূরুল ইসলামের আদেশ রহিত করে রিমান্ডের মাধ্যমে মামলাটি পুন: ন্যায়-নির্ণয়ের জন্য কমিশনার মংলা কাস্টম হাউসে পাঠানো হয়।
এরপর ২০১১ সালের ২৯ জুন মংলা কাস্টম হাউসের নতুন আদেশে বলা হয়, শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
ওই আদেশে পোর্টল্যান্ড সার্ভিসেনেসর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং এক কোটি ৭৯ লাখ ৯৪ হাজার ৩৬০ টাকা সরকারি কোষাগোরে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
এমএনজে
এদিকে সাবেক কাস্টম কমিশনার মোহম্মদ নূরুল ইসলাম ও সাবেক সাংসদ এমএ তালহার বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ তদন্ত করে দুদক।
তদন্ত শেষে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মহাতাব উদ্দিন দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা রুজুর সুপারিশ করে দুদকে প্রতিবেদন জমা দেন।
বৃহস্পতিবার ওই অনুসন্ধান প্রতিবেদনের আলোকে সাবেক কাস্টম কমিশনার মোহম্মদ নূরুল ইসলাম ও সাবেক সাংসদ এমএ তালহার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়।





