নোয়াখালী জেলা ৯ উপজেলায় ছোট বড় ১৫৬টি মন্ডপে চলছে দুর্গোৎসবের আয়োজন।শুধু মা দুর্গার আরাধনা নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ইতিহাস-ঐতিহ্য উপস্থাপনও।
একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা চলছে কে কার চেয়ে ভালো করতে পারে তা নিয়ে। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্যান্ডেল আর প্রতিমার সাজসজ্জায় মুখর প্রতিটি মন্ডপ। এদিকে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে এবারও দেশসেরা পূজার আয়োজন চলছে জেলার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনীতে।
পূজা ঘিরে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তিন স্তরে মন্ডপগুলোর শ্রেণীবিন্যাস করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। পূজার জন্য বরাদ্দ এসেছে একশ' টন চাল। ইতিমধ্যে মন্ডপ গুলোতে পাঁচশ' কেজি চাল বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে এটি অপ্রতুল বলছেন পূজা উদযাপন পরিষদ নেতারা।
সরেজমিন বিভিন্ন মন্ডপে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। প্রতিমায় রঙ এবং পোশাক ও গহনা পরানোর মধ্যে দিয়ে মন্ডপে বসানোর কাজ শেষ । মন্ডপে প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির কাজও শেষের পথে।
দুর্গাপূজা নিয়ে ভক্তদের মাঝে উৎসাহের কমতি নেই। চাঁদা সংগ্রহ এবং মন্ডপের কেনাকাটায় ব্যস্ততারা।
এবার প্রতিটি মন্ডপে সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চলছে পূজার প্রস্তুতি।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এবার নোয়াখালীতে ১৪৭টি মন্ডপে প্রতিমা পূজা এবং ৯টি মন্ডপে ঘট পূজা অনুষ্ঠিত হবে। বেগমগঞ্জে ২০টি, সেনবাগে ১২টি, সোনাইমুড়ীতে ১১টি, কোম্পানিগঞ্জে ১২টি, সদর উপজেলায় ১৭টি, কবিরহাটে ১৬টি, চাটখিলে ৯টি, সুবর্ণচরে ২৬টি এবং হাতিয়ায় ৩২টি মন্ডপে দুর্গাপূজা হবে।
ধর্মীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে আয়োজন চলছে পুরোদমে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা পুরাকীর্তি, দর্শনীয় স্থান এবং সচেতনমূলক বিষয় প্রদর্শিত হবে মন্ডপে। চৌমুহনী পৌর এলাকার শ্রীশ্রী রাধামাধব জিউর মন্দির, দশভুজা, ত্রি-নয়নী, অপরূপা, বিজয়া, মহামায়া, নবদুর্গা, ত্রিশূল এবং মঙ্গলা পূজামন্ডপের প্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষ । বেশিরভাগ মন্ডপে প্রতিমা প্রতিস্থাপনও হয়ে গেছে। চলছে প্রতিমায় সাজসজ্জার কাজ।
এদিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,জেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ (অধিক ঝুঁকিপূর্ণ), গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) এবং স্বাভাবিক এভাবে মন্ডপের তালিকা প্রস্তুত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে। এ হিসাবে জেলায় ৪৯টি মন্ডপ অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৫৯টি মন্ডপ গুরুত্বপূর্ণ এবং ৪৮টি মন্ডপ স্বাভাবিক হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।
মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সর্ম্পকে পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ বলেন, এখন পর্যন্ত মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক।প্রতিটি মন্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া অতি গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের টহল শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপগুলোতেও। পূজায় পুলিশের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক আনসারও মোতায়েন থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সিনিয়র অফিসারদের সমন্বয়ে থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্সের টহল।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি অ্যাডভোকেট রতন লাল সাহা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ মন্ডপের তালিকা তৈরি করে প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। তবে এবার পূজার জন্য সরকারি বরাদ্দ একেবারেই অপ্রতুল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে জেলা প্রশাসক বদরে মুনির ফেরদৌস বলেন, '১০০ টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে মন্ডপগুলোর মাঝে পাঁচশ' কেজি বিতরণ করা হয়েছে। মন্ডপ অনুযায়ী বাকিগুলোও বরাদ্দ দেওয়া হবে।' পূজা ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ





