বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানবপাচারে বিদেশি দু’টি এয়ারলাইন্স জড়িত বলে সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এয়ারলাইন্স দুটির ৫/৭ জন কর্মকর্তাকে সিআইডি সদর দফতরে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০১ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় সিআইডি’র প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান এই তথ্য জানান।
সিআইডি প্রধান বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে মানবপাচারের সঙ্গে বিদেশি দুটি এয়ারলাইন্স জড়িত। যাদের দেশ থেকে পাচার করা হয়েছে, তাদের সবাইকেই ভিজিট ভিসা বা কনফারেন্স ভিসায় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব ভিসায় কেউ কোনও দেশে গেলে তাদের রিটার্ন টিকিট থাকার কথা। কিন্তু কোনও ব্যক্তি রিটার্ন টিকিট নেননি। এটা এয়ারলাইন্সের ত্রুটি। তাদের কর্মকর্তারা জড়িত। পাচার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি এই দুটি এয়ারলাইন্সে গেছেন। আমরা এয়ারলাইন্স দুটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারাও স্বীকার করেছেন, এমন হওয়ার কথা না।” তবে এয়ারলাইন্স দুটির নাম বলেননি সিআইডি প্রধান।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানবপাচারের জড়িত পলাতক ৬ বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল।
তিনি বলেন, “গত ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোলের কাছে ৬ মানবপাচারকারীকে গ্রেফতারে সহায়তা চায়। গত ২৭ নভেম্বর ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করে। এখন পর্যন্ত ৬ জনকেই পাওয়া গেছে যাদের সংশ্লিষ্টতা আছে। আরও কেউ বিদেশে তাদের মতো আছে কিনা তাও আমরা খতিয়ে দেখছি।”
ইন্টারপোল যাদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে তারা হলো- মিন্টু মিয়া, তানজিমুল ওরফে তানজিদ, জাফর ইকবাল, নজরুল ইসলাম মোল্লা, শাহাদাত হোসেন ও স্বপন। এদের মধ্যে নজরুলের বাড়ি মাদারীপুরে, শাহাদাতের বাড়ি ঢাকায়, বাকি ৪ জনের কিশোরগঞ্জে। তানজিমুল বর্তমানে ইতালিতে রয়েছে।
মাহবুবুর রহমান বলেন, “গত ২৬ মে লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনার পর মানবপাচারের ২৬ মামলার মধ্যে ২৫টি মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। এখন পর্যন্ত ১৭১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হবিগঞ্জে দায়ের করা একটি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে ৪২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।”
সিআইডি প্রধান বলেন, “২০১৯ সালের মে মাস থেকে বিভিন্ন সময় ৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়ায় পাচার করা হয়। তাদের ইতালি ও স্পেনে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ার বেনগাজীতে নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তিপণের জন্য গত ২৬ মে নির্বিচারে গুলি করে ২৬ জনকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগে সারাদেশে ২৬টি মামলা হয়। এর মধ্যে সিআইডি বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। বাকিগুলো ভুক্তোভোগীদের পরিবার করে।”
এমবি





