লালমনিরহাটের অর্ধশতাধিক গরু-ছাগলের হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যেখানে গবাদী পশুর ক্ষেত্রে শুধু মাত্র ক্রেতার কাছ থেকে টোল আদায় করার নিয়ম।
কিন্তু তা মানছে না হাট ইজারাদাররা। তারা জোর পূর্বক ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয় পক্ষের নিকট টোল আদায় করছে। টোল আদায় নিয়ে প্রতি নিয়ত ইজারাদারদের সাথে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বাক বিতন্ডার ঘটনাও ঘটছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারী হাট বাজার ইজারা নীতিমালা ২০১১ এর ৫ অনুচ্ছেদে ১৪২৪ বঙ্গাব্দের জন্য যে টোল অনুমোদন করা হয়েছে তাতে উল্লেখ আছে, গরু, মহিষ ও ঘোড়া প্রতিটি ক্ষেত্রে শুধু মাত্র ক্রেতার কাছ থেকে ৩ শত টাকা টোল আদায় করা যাবে।
নীতিমালার ১নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, কোন ভাবেই ২ পক্ষের নিকট টোল আদায় করা যাবে না। যদি কোন ইজারাদার করে থাকেন তা সরকারী দন্ডবিধি মোতাবেক অপরাধ। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু জেলার অর্ধশতাধিক হাট বাজারের ইজারাদার তা মানছেন না।
জেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, আদিতমারী মহিষখোচা হাটে গরু প্রতি ক্রেতা ও বিক্রেতা মিলে ৫ শত টাকা, কালিগঞ্জের চাপারহাট হাটে ৫ শত টাকা, হাতীবান্ধা হাটে ৪ শত টাকা, হাতীবান্ধার বড়খাতা হাটে ৪ শত টাকা, হাতীবান্ধা দইখাওয়া হাটে ৩ শত ৫০ টাকা টোল আদায় করা হচ্ছে।
নীতিমালার ২ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, টোল আদায়ের আগে হাটবাজারের প্রকাশ্য জায়গায় টোল রেইট চার্ট প্রদর্শন করতে হবে। যদি কোন ইজারাদার তা না করে তাহলে ওই ইজারাদারের উপর ফৌজদারী দন্ড বিধি মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কোন ক্রমেই টোল রেইট চার্ট ছাড়া টোল আদায় করা যাবে না। কিন্তু অধিকাংশ হাট ইজারাদার তা মানছেন না।
শনিবার (২৬ আগষ্ট) জেলার হাতীবান্ধা হাট ঘুরে কোথাও কোন টোল রেইট চার্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ সময় টোল আদায় নিয়ে ইজারাদারের এক সদস্যের সাথে ছোবাহান নামে এক গরু বিক্রেতার বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে।
হাতীবান্ধা হাটের গরু ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিল বলেন, হাতীবান্ধা হাটে ক্রেতার কাছে ৩ শত ও বিক্রেতার কাছে ১ শত টাকা টোল আদায় করা হয়। একই নিয়মে দইখাওয়া হাটে ৩ শত ৫০ টাকা ও বড়খাতা হাটে ৪ শত টাকা করে টোল আদায় করা হয়।
এ প্রসঙ্গে হাতীবান্ধা হাটের ইজারাদার কমিটির সদস্য আব্দুল হক বলেন, সরকারী বিধি মোতাবেক টোল কত তা আমি জানি না আর জানতেও চাই না।
আমি টোল আদায় করি রশিদ দেই। কোথাও টোল রেইট চার্ট প্রদর্শন করা নেই কেউ দেখতে চাইলে দেখানো হবে। উভয় পক্ষের নিকট টোল আদায় করা যাবে কিনা তা আমি জানতে চাই না। এর বাইরে কোন কথা বলতে পারবো না।
হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, হাতীবান্ধা হাটে যদি ইজারাদার উভয় পক্ষের নিকট টোল আদায় করে থাকে তাহলে ওই ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাফিউল আরিফ বলেন, হাট-বাজার গুলোতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে আমাদের অভিযান শুরু হয়েছে।
সরকার/জেড





