পলাশবাড়ী উপজেলায় হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও ভারী শিলা বৃষ্টিতে ঘর-বাড়ি, দোকান-পাটের টিনের চাল, ভূট্টা, সবজিসহ বিভিন্ন আবাদি ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। শুধু তাই নয়, শিলা বৃষ্টির কারণে ঘরের টিন ফুটো হয়ে নারী-পুরুষ, শিশুসহ প্রায় শতাধিক মানুষের মাথা ফেটে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

শুক্রবার দুপুর সারে ১২ টা থেকে প্রায় দেড়টা পর্যন্ত এই ঝড়ো হাওয়া ও ভারী শিলা বৃষ্টি হয়। উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর এলাকার বাসিন্দা তালেব মন্ডল জানান, শুক্রবার দুপুর সারে ১২ টার দিকে প্রথমে বাতাস শুরু হয়ে তা তীব্র আকার ধারন করে।

এরপরেই শুরু হয় ভারী শিলা বৃষ্টি। এতে করে ওই এলাকাসহ উপজেলার প্রায় অসংখ্য ঘরবাড়ির টিনের চালা ফুটো হয়ে যায়। তিনি আরো জানান আমার জীবনের দেখা প্রথম এমন শিলা বৃষ্টি।যা শরন কালের ভারী শিলা বৃষ্টি।

উপজেলার সদরের গোয়ালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক তাজুল ইসলাম( ৫০)জানান, আমার অনেক বয়স হলো। তবে আমি এর আগে কখনো এমন ভারী শিলা বৃষ্টি দেখিনি।

তিনি আরো জানান দেড় বিঘা জমিতে তামাক ও মরিচ চাষ করেছি। কিন্ত আমার ফসল শিলা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণ করে তামাক চাষ করেছিলাম। এখন মনে হয় সেই ঋনের টাকা আর শোধ করা সম্ভব হবে না।

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: তনয় চন্দ্র জানায় শীলা বৃষ্টি আহত ২০/২২জনের চিকিৎসা দেয়া হয়ছে।

তারা হলেন পুর্বগোপিনাথপুর গ্রামের রেনু বেগম (৩০) সাইবেনী( ৩৫),আসমা( ৪৫)' রশিদ (৪০) ডাবলু (৪০)মিনারা( ৩২) আশামনি (১৩) সাবিনা( ৩০)ফরহাদ( ৩৪) মওলা( ৪৫)রাবেয়া (৫৫) লোকমান( ৪০) লিপি( ৩৫)জালাগাড়ী গ্রামের মাসুমা (৪২), পুর্ব গোপালপুর গ্রামের শিরিনা (৪০),নিজ কাবিলপুর গ্রামের মারিয়া (২৫),পুর্বফরিদপুর গ্রামের আমেনা( ৫০)।আহতরা দু-তিনদিন ঔষুধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে।

এছাড়াও দূরত্বের কারনে হয়তো অনেকেই আসতে পারেনি। তারা স্থানীয় চিকিৎসকের সহায়তা নিয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার পিআইও শাহিনুর আলম জানান, ঝড়ো হাওয়া ও ভারী শিলা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয় ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ছাদেকুল/এসএম