বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সঙ্গে চোরাকারবারিদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিজিবি'র গুলিতে অন্তত দু'জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১৫ জন।

মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর রেলস্টেশনের পূর্ব পাশে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানান ২৯ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল কোরবান আলী।

নিহতরা হলেন- শুকুর দফাদারের ছেলে মোহাম্মদ শাহীন (২৫) আবদুর রশীদের ছেলে মোহাম্মদ সুলতান আলী (২৩)। তাদের দুজনের বাড়ি উপজেলার পূর্ব জগন্নাথপুর গ্রামে।

বিজিবির দাবি, নিহতরা চোরাকারবারী। অন্যদিকে এলাকাবাসী দাবি, নিহতরা সাধারণ মানুষ। নিহত শাহীন একজন চায়ের দোকানদার।

এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভ করে রেলস্টেশন ও ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক ঘিরে রেখেছে।

 

সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিজিবি গুলি চালায়। এসময় ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যায়। এসময় সমগ্র এলাকায় আতংক ছরিয়ে পড়লে মানুষ দিকবিদিক ছুটতে থাকে। এলাকাবাসীর দাবী, নিহত দুজনই সাধারণ মানুষ। তাদের মধ্যে মৃত শাহীন একজন চায়ের দোকানদার।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আমিরুজ্জামান জানান, ট্রেনে করে অবৈধভাবে ভারতীয় কাপড় নিয়ে আসছিল চোরাকারবারীরা। বিজিবি ট্রেনটিতে অভিযান চালিয়ে মালামালগুলি আটক করে।

পুলিশ জানায়, বিকাল ৫টার দিকে বিরামপুর রেলস্টেশনের পূর্ব পাশে ট্রেনে করে চোরাকারবারীরা ভারতীয় কাপড় নিয়ে যাচ্ছিল। খবর পেয়ে বিজিবি অভিযান চালিয়ে মালামালগুলো আটক করে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে রেলস্টেশনে আনা অবৈধ মালামাল আটক করতে গেলে চোরাকারবারীরা বিজিবি সদস্যদের বাধা দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে চোরাকারবারীরা সংঘবদ্ধ হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এ সময় চোরাকারবারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাধা দেয়। এমনকি একজন বিজিবি জওয়ানকে তুলে নিয়ে যাওয়া চেষ্টা করে। পরে আত্মরক্ষার্থে বিজিবি গুলি চালালে দু'জন নিহত হয়।

এআর