শীতের তীব্রতায় কাঁপছে মানুষ। প্রয়োজনীয় শীত বস্ত্রে অভাবে দুর্ভোগ বেড়েছে ছিন্নমুল মানুষের।

এদিকে হঠাৎ করে গত ২ দিনে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। যে যার সাধ্যমতো শীতবস্ত্র কিনছে। কিন্তু সবচেয়ে কষ্টে আছে পূর্ব বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনার তীরবর্তী মানুষগুলো। এই অঞ্চলের কমপক্ষে ২ হাজার মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে কাবু হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অফিস বৃহস্পতিবার বগুড়ায় এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে।

বগুড়া আবহাওয়া অফিসের বেলুন মেকার (বিএম) মীর আব্দুর রউফ জানান, সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এটাই চলতি বছর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ জেলায় তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। এ মাসের মাঝামাঝি ও শেষ দিকে উত্তরাঞ্চলে দুটি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা আছে। সে সময় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে।

এদিকে, কনকনে এই শীতে খোলা আকাশের নিচে ঝুপরি ঘরে পরিবার নিয়ে মানবেতর দিনযাপন করছে সারিয়কান্দি উপজেলার যমুনা তীরবর্তী এলাকার মানুষরা। সামান্য শীতবস্ত্র টুকু জুটছেনা তাদের ভাগ্যে। বালুচরে বাস করা এসব মানুষদের খড়কুটু দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও। শীতবস্ত্র না থাকায় এছাড়া আর যেন আর কোনো পথই নেই তাদের। এখানে একদিকে নদীর ঠাণ্ডা হাওয়া অন্যদিকে ঘন কুয়াশা তাদের ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

চন্দন বাইশা ইউনিয়নের লোকজন জানান, গত বন্যা শুরু হওয়া থেকে এ পর্যন্ত তাদের দেখতে আসেননি স্থানীয় চেয়ারম্যান।

চন্দনবাইশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে  জানান, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে এলাকায় যেতে পারছি না। আমি ফোনে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। আগামী সপ্তাহে এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করবো।

সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেয়া না হলেও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেয়া প্রায় ১২ হাজার কম্বল বিতরণ করেছে বিএনপি।

সারিয়কান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল মাহমুদ জানান, সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ৪শ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব শীতার্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র দেয়া হবে।

জেআই