পুনর্বাসন ও মেয়েদের চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা (নৌ-কমান্ডো : ০১১৫) গাজী মো. আব্দুর রহিম। অন্যথায় তাকে খাল খননের কোন কাজ দেয়া হয় যাতে তিনি দেশের পাশাপাশি নিজ পরিবারের মুখে দু-মুঠো অন্ন তুলে দিতে পারেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ছোট মিলনায়তনে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
আব্দুর রহিম বলেন, বৃদ্ধ বাবা-মাসহ আমার পরিবারের মোট সদস্য আটজন। আমি একটি মসজিদে মুয়াজ্জিনের চাকরি করি। কিন্তু এ চাকরি করে যে টাকা পাই তাতে এত বড় সংসার চালান খুবই কষ্টকর। এর উপর মসজিদের মুয়াজ্জিন হওয়ায় যে ছোট কোয়ার্টার পেয়েছি তাতে আমার পুরো পরিবার নিয়ে থাকতে হয়। অথচ আমার বড় চাকরি ছিল। চট্টগ্রামের ঈশা খাঁ নৌ-বাহিনীর বিএনএস-এ।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের জন্য আত্মত্যাগের উদাহরণ সৃষ্টি করতে নৌ-কমান্ডো হিসেবে সুইসাইড স্কোয়াডে নাম লেখাই। মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের শেষে আমি ঢাকায় চলে আসি। সেখানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ছাত্র ও সহযোদ্ধা ডা. মাহফুজুল হক এবং অন্যান্য ছাত্রদের সঙ্গে ছাত্রাবাসে থাকতে শুরু করি। নিয়মিত মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় আজান দিতে হত। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এক সময় মিটফোর্ড কলেজ ছাত্রাবাসের মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পাই। কিন্তু চলতি মাসেই আমার চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
বীর এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আমি আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখন পরিবার নিয়ে মাথাগোঁজার কোন জায়গা নেই আমার।
অসহায় এ মুক্তিযোদ্ধা আরও বলেন, আমার চার মেয়ের সবাই শিক্ষিত। মেয়েদের মধ্যে একজন মাস্টার্স পাশ, একজন ডিগ্রিতে এবং একজন কলেজে অধ্যায়নরত। তাই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনাদের মাধ্যমে (সাংবাদিক) আবেদন করছি, আমার মেয়েদের চাকরি এবং আমার পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা যেন সরকার করে দেয়। অন্যথায় আমাকে খাল খননের যেন একটি কাজ দেওয়া হয়। এতে আমি দেশের জন্য কিছু করতে পারব, পাশাপাশি পরিবারের আয়ের ব্যবস্থাও হবে।
ঢাকা, ১৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





