বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির মামলায় বরগুনার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় এবার ব্যবস্থা নেয়া হলো দুই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে।
ইউএনও তারিক সালমনকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বরিশালের জেলা প্রশাসক গাজী মো. সাইফুজ্জামান এবং বরগুনার জেলা প্রশাসক মহা. বশিরুল আলমকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এই আদেশ জারির প্রস্তুতি চলছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।
তিনি জানান, বরিশালের আগৈলঝাড়ায় দায়িত্ব পালনের সময় বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সালমনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতের মামলা হলেও তার কোনো দোষ ছিল না।
এদিকে বরগুনার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ। এ কমিটি কোথাও কোনও আইনের ব্যত্যয় হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবে। গত শনিবার এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই বৈঠকে অন্যান্য অনেক বিষয়ের পাশাপাশি ইউএনও সালমনের বিরুদ্ধে করা মামলা এবং তাকে জামিন নাকচ করে প্রথমে কারাগারে পাঠানো ও পরে জামিন মঞ্জুর করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব, সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের দুইজন যুগ্ম সচিব, আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন যুগ্ম সচিব। কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই তদন্ত কমিটি ১৫ দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দেবে। এই কমিটি সবকিছু নিয়েই তদন্ত করবে। ইউএনওকে কেন গ্রেফতার করা হল। বা এখানে কোনো আইনি ব্যত্যয় ঘটেছে কি না- সবকিছুই এই তদন্ত কমিটি দেখবে।
এ ঘটনায় মাঠ প্রশাসনের কোনও গাফিলতি আছে কিনা-সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে শফিউল আলম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এটি বলা যাবে।
বিভাগীয় কমিশনার ওই ইউএনও’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যে সুপারিশ করেছিলেন, সেটার এখন কী অবস্থা? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এগুলো নথিজাত (নথিভুক্ত) করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, আগে প্রতিবেদন হাতে পাই, পরেরটা পরে বলা যাবে।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহৃত পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগ উঠে বরগুনার ইউএনও গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত ৭ জুন তার বিরুদ্ধে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানির মামলা দায়ের করেন বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। ওইদিন মামলা আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারির আদেশ দেন। গত ১৯ জুলাই গাজী তারিক সালমন আদালতে হাজির হলে প্রথমে তার জামিন নামঞ্জুর করে গারদে পাঠান বিচারক।পরে তাকে জামিন দেন আদালত।
এদিকে, শিশুর আঁকা জাতির জনকের ছবি ব্যবহার করে কার্ড ছাপানোর কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজেহাল হওয়ায় ভীষণ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশে অ্যাডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা শাখার ধর্মষিয়ক সম্পাদকের পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এরপর গত রোববার তিনি মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।
অপরদিকে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিক সালমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে এর শেষ দেখে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
গতকাল রোববার রাজশাহীর মোহনপুরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের উদ্বোধনকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং হয়রানির ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। বরিশালের ইউএনও হয়রানিটা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য বিষয় নয়। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়বো। কারণ, আমার মনে হচ্ছে এটা সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। এর বিচার অবশ্যই হবে।
এমবি





