কুড়িগ্রামে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। রোববার দুপুরে নবগঠিত কমিটি ও পদ-বঞ্চিতদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।

এতে উভয় পক্ষের নয়জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন, নবগঠিত কমিটির সভাপতি ওয়াহেদুন্নবী সাগর, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, তাঁদের পক্ষের কর্মী রঞ্জু, তপন, সোহেল ও মাহাবুব। এ ছাড়া পদ-বঞ্চিতদের পক্ষের কর্নেল, সাগর ও তৌহিদ আহত হন। তাঁদের কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করে বলেন, আজ দুপুর ১২টার দিকে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাস থেকে জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে বের হওয়ার সময় পদ-বঞ্চিতরা তাঁদের ওপর হামলা চালান।

তবে পদ-বঞ্চিতদের নেতা রিপন আহাম্মেদের দাবি, ছাত্রলীগের নতুন কমিটির নেতারা ক্যাম্পাসে মিছিল করতে চাইলে পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীরা মিছিলে যেতে অসম্মতি জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নামধারীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আবদুল বাতেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ নভেম্বর কুড়িগ্রাম টাউন হলে জেলা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন ছাত্রলীগ সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধান বক্তা ছিলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম।

সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আটজন প্রার্থী ছিলেন। কাউন্সিলর ছিলেন ৪০১ জন। দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রার্থী নির্বাচন ও প্রত্যক্ষ ভোটাভুটি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে একদল দুর্বৃত্তদের হাতে লাঞ্ছিত হন সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসান। এ পরিস্থিতিতে রাত সাড়ে আটটার দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা কাউন্সিলের কার্যক্রম স্থগিত করে ঢাকায় চলে যান। পরের দিন ৯ নভেম্বর কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকা থেকে নতুন জেলা কমিটি ঘোষণা করেন। সভাপতি পদে ওয়াহেদুন্নবী সাগর ও সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলামকে মনোনীত করা হয়। এর পর থেকে পদ-বঞ্চিত একটি অংশ কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। দুই পক্ষই তাদের সমর্থনে শহরে মিছিল-সমাবেশ অব্যাহত রাখে।

কেএইচ