বেকার তরুণ-তরুণীদের অস্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য দেশের দরিদ্রতম আরো ৬৪ উপজেলায় ‘ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি’ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য ৩৩০ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সচিবালয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই ৬৪টি উপজেলার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের চারটি উপজেলাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে উপজেলার নামগুলো এখনও ঠিক করা হয়নি। সর্বোচ্চ দারিদ্র্যসীমা হিসাব করে বিবেচনা করা হবে। এই ৬৪টি জেলায় তিন পর্বে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন হবে।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় প্রথমে তিন মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর দুই বছরের জন্য স্থানীয় সরকারি অফিসগুলোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হয়। এই চাকরিকালীন সময়ে প্রতিদিন একেক জন ২০০ টাকা করে পাবেন। আর প্রশিক্ষণের সময় পাবেন প্রতিদিন ১০০ টাকা। এই পর্ব বাস্তবায়নের জন্য নতুন করে খরচ হবে ৩৩০ কোটি টাকা। আর মোট বরাদ্দ হচ্ছে ৫৪৪ দশমিক ৯০ কোটি টাকা।
তিনি জানান, এ কর্মসূচির আওতায় বেকার তরুণ-তরুণীরা ৩ মাস প্রশিক্ষণের পর দুই বছর মেয়াদে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়ে থাকে। সুবিধাভোগীদের বয়স হবে ১৮ থেকে ৩৫ বছর ও শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি। প্রাপ্ত ৬ হাজার টাকা মাসিক ভাতা থেকে দুই হাজার টাকা মাসিক সঞ্চয় হিসাবে ব্যাংকে জমা রাখা হয়। চাকরি শেষে লাভসহ তা ফেরত দেওয়া হয়।
ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় গত আগস্ট পর্যন্ত এক লাখ ১১ হাজার ১১৬ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, এক লাখ ৮ হাজার ৭৮২ জনের অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি ছিল, ২০১০ সালে ৬ মার্চ এ কর্মসূচি কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হয়।
জারিফ
প্রথম পর্যায়ে কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও গোপালগঞ্জের ১৯টি উপজেলায় ৫৬ হাজার ৮০১ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং এর মধ্যে ৫৬ হাজার ৫৪ জনকে অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়। এজন্য ব্যয় হয় ৮৪৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা সরকারের রাজস্ব বাজেট থেকে আসে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১১-১২ সালে রংপুর বিভাগের সাতটি জেলার আটটি উপজেলায় ১৪ হাজার ৪৬৭ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং খরচ হয় ২৭৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০টি জেলার ২৭টি উপজেলায় অস্থায়ী কর্মসংস্থান পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫২১ জন।
তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে সম্প্রসারিত ১৭টি জেলার ১৭টি উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ পর্যায়ে দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ ধাপে দেশের ১ লাখ ১১ হাজার ১১৬ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার ৭৮২ জনকে অস্থায়ী চাকরি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১০ সালে যে দারিদ্র্য ম্যাপ তৈরি করেছে, তা অনুসরণ করে এসব উপজেলাকে কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পঞ্চমপর্বে ২০ উপজেলা, ষষ্ঠ পর্বে ২০ উপজেলা এবং সপ্তম পর্বে আরও ২০ উপজেলাসহ তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে খাগড়াছড়িতে দুইটি এবং রাঙামাটি ও বান্দরবানে একটি করে উপজেলায় কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।
২০১৭ সালের মে মাস থেকে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
এছাড়া সোমবারের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৬ এর খসড়া চূড়ান্ত, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন, ২০১৬ এর খসড়া নীতিগত ও জাতীয় জৈব নীতি, ২০১৬ এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জারিফ





