ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর নিয়ে দেশে এখন জোর আলাপ চলছে। সব প্রস্তুতি শেষ। আর বাকি মাত্র দুই দিন। তারপরেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো পা রাখবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সাথে ভারতের নতুন সম্পর্কের বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে।
ছয় জুন দুই দিনের সফরে ঢাকা আসছেন নরেন্দ্র মোদি। সঙ্গে থাকছে বিশাল বহর। সেই বহরে থাকার কথা ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। কিন্তু মোদির আগমনের আগেই তিনি ৫ জুন কলকাতা থেকে সরাসরি ঢাকা আসবেন।
তাইতো এই দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারাদেশে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নরেন্দ্র মোদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সব কিছুর তদারকি করছেন। যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে।
পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন সজাগ। তাদের অনেকের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
সেই সাথে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনি এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরও ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার মোদির সফর উপলক্ষে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ঢাকা মহানগর পুলিশের সকল ডিসি, এডিসি, এসি ও ওসিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। যেখানে সার্বিক নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনা শেষে বিকেল চারটায় ডিএমপি সদর দপ্তরে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) মীর রেজাউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমানবন্দর থেকে যেসব জায়গা তিনি পরিদর্শণ করবেন, সেসব জায়গায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এসব এলাকায় পুলিশের বিশেষ টিম থাকবে। নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তারা ছদ্মবেশে মাঠে রয়েছেন।
মোদির সফরকে কেন্দ্র করে ভারতের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশে এসেছে। তাদের সাথে পুলিশের কোন সমন্বয় থাকবে কিনা সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। তবে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে ভারতের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপ (এসপিজি) ও কমান্ডো ফোর্স ব্ল্যাক-ক্যাটের সদস্যরা দু’দফায় বাংলাদেশে এসেছেন এবং তারা মোদির সফরের দু’দিন ঢাকাই অবস্থান করবেন।
সার্বিক নিরাপত্তার ব্যাপারে র্যাব সদর দপ্তর গণমাধ্যম শাখার উপ-পরিচালক ক্যাপ্টেন রুম্মন রশিদের সাথে কথা বললে তিনি টা্ইমনিউজবিডিকে বলেন, অবশ্যই আমাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে বিশেষ নজরদারি থাকবে। বরাবরই কোন দেশের প্রধান পর্যায়ের কোন নেতা বা বিশেষ কোন কুটনৈতিক আসলে যেমন নিরাপত্তা বেষ্টনি থাকে তেমনই থাকবে।
গত ৭ মে ভারতের পার্লামেন্টে লোকসভায় সীমান্ত চুক্তি বিল পাসের পর বাংলাদেশে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরসূচি নির্ধারণ করা হয়।
২০১৪ সালের মে মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর নরেন্দ্র মোদি দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ সফর করেন। বাকি ছিল পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। তাই সীমান্ত বিল সংসদে অনুমোদন হ্ওয়ার পরই তিনি বাংলাদেশ সফরের তারিখ ঠিক করলেন।
১৯৭৪ সালের ১৮ মে বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন।
পরে ২০১১ সালে কংগ্রেস জামানায় চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে বাধ সাধেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
অবশ্য সময়ের পরিক্রমায় তিনি চুক্তিবিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসেন এবং লোকসভায় এ সংক্রান্ত বিল পাসে জোরদার ভূমিকাও রাখেন।
চুক্তি অনুযায়ী ভারতের ১১১টি ছিটমহলের ১৭ হাজার ১৬০ একর এবং বাংলাদেশের ৫১টি ছিট মহলের ৭ হাজার ১১০ একর ভূমি বিনিময় হবে। এছাড়া ৬ দশমিক ১ কিলোমিটার অপদখলীয় সীমানাও চিহ্নিত করা হবে।
সফরে তিস্তা চুক্তি হবে না বলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের তিস্তা চুক্তি হবে না এমন বক্তব্যের বিষয়ে কিছু বলতে চাননা নরেন্দ্র মোদি। মোদির সফরে বাস ও রেল যোগাযোগ নিয়েও কয়েকটি চুক্তি হবে।
৭ জুন সকালে তার জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে মোদির। সেখানে তিনি পূজা দেবেন।
এমআর/এসএইচ





