যশোরের বেনাপোল চেকপোষ্ট এলাকার আবাসিক হোটেল সোনার বাংলায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ভ্রম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে অবৈধ কর্মকান্ডের অভিযোগে ৩ পতিতা ও হোটেল মালিক সহ ৫ জনকে আটক করেছে।

আটকৃতদের মধ্যে পতিতা ও খরিদ্দারসহ ৪ জনকে ১ মাসের কারাদন্ড ও ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ও এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা করার অপরাধে হোটেল মালিক আবু তালেবকে ১ লাখ টাকা জরিমানা সহ এক মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। শার্শা উপজেলা নির্বাহি অফিসার আব্দুস সালাম ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করে এই রায় প্রদান করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানা যায়, বেনাপোল চেকপোষ্ট সংলগ্ন সোনার বাংলা আবাসিক হোটেলে পতিতা ব্যবসা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের সংবাদ পেয়ে ৫ সদস্যের একটি মোবাইল টিম গঠন করে হোটেলে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে হোটেলের ৩ টি রুম থেকে ৩ পতিতা ও ১ খরিদ্দারকে আটক করে জেল জরিমানা করা হয়েছে । আটককৃতরা হলো, ঢাকার সহিদুলের মেয়ে শিমলা (২২), বাগেরহাটের আব্দুর রশিদের দুই মেয়ে ঝর্না (১৭) ও সনিয়া (২২)।

খরিদ্দার শার্শার রুদ্রপুর এলাকার করিমের কলেজ পড়ুয়া ছেলে সবুজ মিয়া (২৫) কে শিমলার সাথে রাত্রি যাপনের অভিযোগে আটক করা হয় ও হোটেল মালিক সাদিপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আবু তালেবকে এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা করার অপরাধে আটক করা হয়।

এসময় আবু তালেব কলগার্ল সোনিয়াকে তার স্ত্রী বলে দাবী করেন। তবে কোন কাবিন নামা দেখাতে পারেনি তারা।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল চেকপোষ্ট সংলগ্ন এলাকায় সোনার বাংলা নামক একটি আবাসিক হোটেল তৈরী করে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের রেখে অসামাজিক কর্মকান্ড সহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল হোটেলটির মালিক আবু তালেবের বিরুদ্ধে। ইতিপূর্বে অসমাজিক কর্মকান্ডের অভিযোগে হোটেলটি সিলগালা করা হয়।

আবারও হোটেল মালিক আবু তালেব বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণীদের এনে আবাসিক হোটেলে অসমাজিক কর্মকান্ড করে আসছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সে পতিতার ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলেও সুত্রটি জানায়।  

বেনাপোল পোর্ট থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক মনির হোসেন জানান, সোনার বাংলা হোটেল থেকে আটকৃতদেরকে যশোর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এসএইচ