পঞ্চগড়ের মোমিনপাড়া সীমান্তে এক বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ীকে মাথায় গুলি করে হত্যার পর তাঁর লাশ সীমান্তে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।

গুলিতে ওই বাংলাদেশির মাথার মগজ বের হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) ভোরে সদর উপজেলার মোমিনপাড়া সীমান্তের ৭৫২ নম্বর মেইন পিলার এলাকা থেকে বিজিবির উপস্থিতিতে লাশ উদ্ধার করে পঞ্চগড় থানার পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির নাম হাসান আলী (২৫)। তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের খালপাড়া গ্রামের তবিবর রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল ভোরে মোমিনপাড়া সীমান্তের ওই এলাকায় হাসান আলীর গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন। এলাকাটি নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ঘাগড়া ক্যাম্পের অধীনে। খবর পেয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মামুনুল হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায়সহ বিজিবি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বিজিবির উপস্থিতিতে পঞ্চগড় থানার পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার গভীর রাতে হাসান আলীসহ ছয়-সাতজন বাংলাদেশি গরু আনতে মোমিনপাড়া সীমান্তে যায়। তাদের মধ্যে হাসান ভারতের বেরুবাড়ী বিএসএফ ক্যাম্পের টহলরত সদস্যদের হাতে আটকা পড়েন এবং বাকিরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

হাসানের স্ত্রী সাদিয়া জাহান বলেন, “আমার স্বামী প্রায় নিয়মিতই সীমান্তে গরু আনতে যায়। আমি নিষেধ করি বলে আমাকে না জানিয়েই যায়। সোমবার রাতে সীমান্তে যাওয়ার বিষয়ে কিছু জানতাম না। ভোরের দিকে ওপার থেকে খবর আসে আমার স্বামীকে আটক করে বিএসএফ মারধর করছে। এর কিছুক্ষণ পরই শুনি আমার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে বিএসএফ। আমি আমার স্বামীকে হত্যার বিচার চাই।”

হাসানের বাবা তবিবর রহমান বলেন, “আমার ছেলে যদি কোনো অন্যায় করে থাকে, তাহলে বিএসএফ ধরে নিয়ে তাদের দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করুক। কিন্তু নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করল কেন? তারা যে গুলি করে হত্যার পর লাশ টেনেহিঁচড়ে ফেলে রেখে গেছে সে চিহ্নও আছে সেখানে।”

হাসানের বড় ভাই শাহাজাদ আলী বলেন, “ভোরে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার ভাইয়ের লাশ পড়ে আছে। গুলিতে মাথার মগজ বের হয়ে গেছে। বিএসএফই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।”

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, “হাসানকে হত্যা করা হয়েছে, এটা নিশ্চিত। তবে কারা হত্যা করেছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর আমরা আপনাদের বিস্তারিত জানাতে পারব।”

৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মামুনুল হক তদন্তের আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এমবি