ঈদের এই হাসি-খুশির রেশ থাকবে কয়েকদিন। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত প্রবীণ নিবাসে (বৃদ্ধাশ্রম)ঈদের দিন কারও কারও স্বজন সেমাই, ফিরনি নিয়ে এসে খবর নিয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রবীণরা সময় কাটাচ্ছেন একা একা। তারা এখনও আশায় আছেন, হয়তো সন্তানদের কেউ এসে তাদের খোঁজ-খবর নিবে।

ঈদের দিন ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনিদের দেখার ইচ্ছা থাকলেও সে সাধ পূরণ হয় না অনেক প্রবীণের। এমনকি প্রিয়জনের ফোনের আশায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত চোখের জল ঝরিয়েই নিজেকে সান্ত্বনা দিতে হয় অনেকের।

আপনজনদের এমন আচরণে মর্মাহত এসব প্রবীণরা। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পরিবর্তে সারাদিন বারান্দায় পায়চারি করে সময় কাটাতে হয় তাদের। মনে একটাই আশা, এই বুঝি তার সন্তান নিতে এসেছে। কারণ মান- অভিমান যাই থাক না কেন, নাড়িছেঁড়া ধন সন্তানদের ভুলতে পারেন না তারা।

জাহাঙ্গীর (৭০) বলেন, ছেলেমেয়ে ও বউমার কাছ থেকে নতুন পোশাক পেয়েছি। তাছাড়া কানাডা থেকে মেয়েটা টাকা পাঠিয়েছে। ঈদের দিন তারা এসেছিল দেখা করতে। দীর্ঘদিন পর তাদের দেখে খুবই আবেগ আপ্লুত হয়ে পরেছিলাম। খুব আনন্দ লেগেছিল ঈদের দিন।

তিনি বলেন, ঈদের দিন ঘুম থেকে উঠে গোসল করি। তারপর সেমাই বা হালুয়া খেয়ে নামাজ পড়তে যাই। নামাজ পড়ে এসে এখানের সবার সঙ্গে কোলাকুলি করি। নিজেদের দুঃখ ভাগাভাগি করি। পরে দুপুরের খাবার খেয়ে ছেলে মেয়েদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তারা আসলে অনেক বিষয় নিয়ে কথা হয়।

দুই মেয়ে আর স্ত্রী আমেরিকা প্রবাসী হলেও নিজ মাতৃভূমি ছাড়তে চান না পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও পর্যটন কর্পোরেশনের সাবেক কর্মকর্তা এমদাদুল হক। ঢাকায় নিজের বাড়ি থাকলেও একাকিত্বের কারণে তিনি গত মাসেই এসেছেন প্রবীণ নিবাসে। তিনি বলেন, আমার দুই মেয়ে ও স্ত্রী আমেরিকায় থাকে। ধানমন্ডিতে নিজের বাড়ি থাকলেও সেটা ভাড়া দিয়েছি। কারণ সেখানে একা থাকতে হয়। তবে এখানে থাকায় আমার মেয়েরা খুব কান্নাকাটি করেছে। ঈদের দিন তাদের সঙ্গে মোবাইলে কথাও হয়েছে। সব মিলিয়ে ভালই কেটেছে স্ত্রী-সন্তান ছাড়া প্রথম ঈদটা।

সন্তাদের কাছ থেকে বিতাড়িত হয়ে আনোয়ার হোসেন (৭৪) গত তিন বছর এ বৃদ্ধাশ্রমে আছেন। সন্তানদের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ার পর থেকে কেউ এখন তার খোঁজ-খবর রাখেন না। সন্তান কিংবা আপনজনের কথা জিজ্ঞাসা করলে শুধু চোখের পানি ফেলেন। তিনি বলেন, অনেক কষ্টে দুই ছেলেকে বড় করেছি। কিন্তু সম্পদ ভাগাভাগি নিয়ে দুই সন্তানের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আমি নিজের ইচ্ছাই এখানে আশ্রয়ই নিই। পরবর্তীতে কেউ আমার খোঁজ-খবর নেয়নি। এখানে অনেক ভাল আছি বলে চোখ মুছতে থাকেন সাবেক এই সরকারি কর্মকর্তা।

ঢাকা,কেএ ৩০ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম