উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে ফুলছড়ি উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদের পানি বেড়েছে। ফলে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় প্রায় ২৩ হেক্টর জমির কালি জাতের আধা-পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া জমির আধা-পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। এতে করে এ অঞ্চলের কৃষকরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বছর প্রায় ৩৮০ হেক্টর জমিতে কালি বোরো ধানের চাষ করেছেন কৃষকরা। কিন্তু হঠাৎ করে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদের পানি বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের প্রায় ৩০ হেক্টর জমির কালি জাতের আধা-পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
কয়েক দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি বাড়ার ফলে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট ও কঞ্চিপাড়া গ্রামের প্রায় ৩০ হেক্টর জমির কালি জাতের আধা-পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ফলে এসব জমির আধা-পাকা ধান কাটতে শুরু করেছে এলাকার কৃষকরা। অনেক কৃষক শ্রমিক না পেয়ে তাদের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পানির নিচে ডুবে ধান কাটছেন।
বালাসীঘাট এলাকার কৃষক সাদেক আলী জানান, পানির নিচে ডুবে যাওয়া ধানগুলো অনেক কৃষকেই কাটতে পারছেন না। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ধান যদি পাকা হতো তাহলে সমস্যা ছিল না। কিন্তু আধা-পাকা ধান হওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে বাড়িতে এনে গরুকে খাওয়াচ্ছেন।
পূর্ব কঞ্চিপাড়া গ্রামের কৃষক আয়নাল হক জানান, অনেক কষ্ট করে তিন বিঘা জমিতে কালি বোরো ধান চাষ করেন। যে সময়ে জমিতে ধান আধা-পাকা অবস্থা ঠিক সে সময়ে ধানগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন তলিয়ে যাওয়া ধান নিয়ে তিনি মহাবিপাকে পড়েছেন।
একই গ্রামের কৃষক আয়নাল হক জানান, প্রায় ৩ মাস আগে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী বালাসীঘাটের পূর্ব পাশে ২ বিঘা জমিতে (বর্ষালি) কালি জাতের বোরো ধান চাষ করেন। তার আশা ছিল নদীগর্ভে বিলীন হওয়া জমিতে ধানের আবাদ করে সংসারের কিছুটা অভাব দূর করবেন। কিন্তু অসময়ে নদীতে পানি বাড়ায় তার স্বপ্নও পানিতে তলিয়ে গেল।
ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ তাহাজুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের তীরবর্তী এলাকা কালি বোরো ধান চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এসব জমিতে শুকনো মৌসুমে পানি শুকানোর সাথে তাল মিলিয়ে কালি বোরো ধান চাষ করেন কৃষকরা। আগাম বন্যা বা অতি বৃষ্টির ফলে যে কোনো মুহূর্তে তলিয়ে যেতে পারে।
এআই





